বাঁধ ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০১ এএম

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের বটবুনিয়ায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢাকি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত দুই দিনেও বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় হাজার হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কমপক্ষে ৪০টি কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে এবং সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, দাকোপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসমত হোসেন এবং জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১ নম্বর পোল্ডারের তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হরিসভা মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় ঢাকি নদীর জোয়ারের অতিরিক্ত চাপে প্রায় ২৫ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। সকালে ভাটার সময় জিও টিউবে বালু ভরে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়। দুপুরের জোয়ারে পানি পুনরায় এলাকায় প্রবেশ করে এবং ভাঙন বেড়ে ৪০ মিটারে পৌঁছায়। এতে উত্তর কামিনীবাসিয়া, বটবুনিয়া, নিশানখালী ও আড়াখালী এলাকার ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের, পুকুর এবং প্রায় তিন হাজার বিঘা জমির আমন ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে দিনরাত পরিশ্রম করে বাঁধ পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দাকোপের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারে বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ৩১ নম্বর পোল্ডারে জাইকার অর্থায়নে ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৭৫০ মিটার স্থায়ী নদী শাসনের কাজ চলছে। এই পোল্ডারের আওতায় পানখালী, তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন এবং চালনা পৌরসভা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজের ধীরগতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে নদী ভাঙনের সংকট তীব্র হয়েছে। বটবুনিয়ার বাসিন্দা প্রকাশ বালা ও সনজিত বালা জানান, ভাঙনকবলিত স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন গাজী জানান, ঢাকি নদীর জোয়ারের অতিরিক্ত চাপে বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়নি। দ্রুত বাঁধ মেরামত না হলে দক্ষিণ কামিনীবাসিয়া, ভাদলা বুনিয়া, মশামারী, গড়খালী ও কাকড়া বুনিয়াসহ গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধ আটকানো যায়নি। তবে, ভাটার সময় বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চলমান প্রকল্পের ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত স্থান নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় নেই। এ ছাড়া রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণে স্থানীয়দের জমি না দেওয়ার কারণে মেরামত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন বলেন, ‘দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের মধ্যে চিড়া, গুড়, চাল, ডাল, তেলসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে আরও ৪০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত