শুল্ক দ্বিগুণের হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। চীনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি সীমিত করার প্রতিশোধ হিসেবে ট্রাম্প এবার চীনের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিলেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মাস নাগাদ চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সঙ্গে ১ নভেম্বরের মধ্যে চীনের ওপর ‘সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের’ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে যেটা বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ দিন আগে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এও লেখেন, তিন সপ্তাহ পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত। এখন এর আর কোনো কারণ দেখছি না উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অবশ্য পরে সম্ভাব্য বৈঠক সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, আমি বাতিল করিনি। ধরে নিচ্ছি, এটা হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বেইজিং এই বৈঠক কখনও নিশ্চিত করেনি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ চীনের বিরল খনিজ পদার্থ রপ্তানিতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের জবাবে নেওয়া হয়েছে। এই খনিজ পদার্থগুলো প্রযুক্তি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং চীন এই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমি খুবই অবাক হয়েছি। এটা খুব, খুব খারাপ সিদ্ধান্ত।

চীনের ওপর শুল্ক দিগুণ করার এই ঘোষণাকে গত ছয় মাসে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্পর্ক বিচ্ছেদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন ও আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ ও বৃহত্তম ভোক্তা দেশ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রীষ্মে অর্জিত অর্থনৈতিক শান্তি আর কতদিন টিকবে। রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এবারও দ্রুত ও নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হতে পারে, যা এই বছরের শুরুতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা থেমেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে সফটওয়্যার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে দেশটির প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্প বড় ধাক্কা খেতে পারে। ট্রাম্প বিমান ও বিমানযন্ত্রাংশ রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন আরও কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। চীন বহুদিন ধরে আমেরিকাকে একতরফা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বেইজিং বলছে, একতরফা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত