১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর সালেহ হাসান নকীব। গতকাল রবিবার দুপুরে রাবির সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
রাবি উপাচার্য বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করা হবে। ভোটগ্রহণের পর থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত সব কার্যক্রম ক্যামেরার মাধ্যমে দেখানো হবে। আমরা আশা করছি, আমাদের যে লজিস্টিক সাপোর্ট টিম আছে তারা খুব দক্ষ। রাকসু নির্বাচনে পর ১২ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ফল প্রকাশ করতে পারব বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখানে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমরা দৃঢ় প্রত্যয়। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করছি।’ রাকসু নির্বাচন সফল করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী সবাইকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান উপাচার্য।
ভোটগ্রহণ হবে যেভাবে : রাকসু নির্বাচন কমিশন গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা সভা করেছে। সভায় পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয় কমিশন। এ সময় ভোট প্রদান প্রক্রিয়া, ফল তৈরির প্রক্রিয়া, নির্বাচনী আচরণবিধি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উঠে আসে।
যেভাবে ভোট দেবেন ভোটাররা : সভায় নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, একজন প্রার্থীর ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে পোলিং অফিসারের থেকে তালিকায় স্বাক্ষর করে ভিন্ন রঙের ছয়টি ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে। পরে গোপন বুথে গিয়ে তা পূরণ করবেন।
এতে প্রথম ব্যালট পেপারে থাকবে সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যালটে থাকবে বিভিন্ন সম্পাদকীয়, পঞ্চম ব্যালটে থাকবে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি ও সবশেষে ষষ্ঠ ব্যালটে থাকবে হল সংসদের প্রার্থীদের তালিকা। ভিন্ন রঙের ব্যালট গোপন বুথে পূরণ শেষে ভোটারদের ভিন্ন ভিন্ন রঙের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে।
প্রতি ভোটার ভোট দিতে সময় পাবেন ১০ মিনিট করে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাইনে অংশগ্রহণকারী ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
কাগজ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন কেন্দ্রে : ভোট প্রদান করতে ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা প্রার্থীর নাম লিখে নিয়ে যেতে পারবেন। প্রার্থীরাও তাদের প্যানেলের তালিকা ভোটারদের দিতে পারবেন। এ বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা ডাকসু ও জাকসুতে ভোটারদের প্যানেলের তালিকা দেওয়ার বিষয়ে অনেক অভিযোগ দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব প্রার্থী ও প্যানেল তাদের প্যানেলের তালিকা ভোটারদের দিতে পারবেন। কারণ, আমরা দেখেছিন একজন ভোটারের পক্ষে একসঙ্গে ৪১ জন প্রার্থীর নাম মনে রাখা সম্ভব নয়। ভোটার যেন কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করেন, এজন্যই আমরা কাগজ নিয়ে প্রবেশের সুযোগ রাখছি।’
ফল যেভাবে : সভায় নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর সব কেন্দ্রের ব্যালট পেপার নিয়ে আসা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে। ভিন্ন ভিন্ন বাক্সের ব্যালট বের করে ১০০টি করে আলাদা আলাদা বান্ডেল করা হবে। প্রতিটি বান্ডেল ওএমআর মেশিনে দিয়ে গণনা করা হবে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ প্যানেল আধুনিক এ ফল পর্যবেক্ষণ করবে। সর্বমোট তিনটি ধাপে চূড়ান্ত ফল তৈরি হবে। এভাবে একটি হলের ফল তৈরি হলে অন্য হলেরটা শুরু হবে। ১৭টি ফলাফলের কাজ সম্পন্ন হতে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা লাগতে পারে।
ভোটকেন্দ্রে থাকবে সিসিটিভি, ফল দেখানো হবে সরাসরি : নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের ১৭টি হলের জন্য ১৭টি কেন্দ্রে ৯০০-এর অধিক বুথে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রের ৪০০ গজের একটি বলয় করে চৌহদ্দি নির্মাণ করা হবে। এর ভেতর কোনো প্রার্থী প্রবেশ করতে এবং প্রচারণা চালাতে পারবেন না। প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে সম্পূর্ণ সিসিটিভির আওতাভুক্ত।
ভোটগ্রহণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা করা হবে। এখানে সাংবাদিকরা তাদের সম্প্রচার করতে পারবেন। এ ছাড়া ভোট গণনার সব প্রক্রিয়া মিলনায়তনের সামনে বড় স্ক্রিনে দেখানো হবে।
কেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর প্রবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা : ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কেন্দ্রের ৪০০ গজের একটি চৌহদ্দি করা হবে। এর ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রচার চালাতে ও প্রবেশ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আকন্দ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যে ৪০০ গজের চৌহদ্দি নির্মাণ করা হবে, এর ভেতর কোনো প্রার্থী প্রবেশ করতে ও প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এ ছাড়া প্রার্থীরা ভোটারদের যে প্রার্থী তালিকা দেবেন, সেটা নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পর না দেওয়ায় নিরুৎসাহিত করা হলো।’
এ ছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করাতে চাই না। আমাদের নিরাপত্তায় পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করবে। বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও বিজিবিও কাজ করতে পারে।
