ইসির সঙ্গে বৈঠক

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে না করে আলাদা দিনে আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, গণভোট হলো জাতীয় সংস্কার ও রিফর্মসের বিষয়, আর জাতীয় নির্বাচন হলো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। একসঙ্গে হলে সংস্কারের গুরুত্ব কমে যাবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। আমরা প্রস্তাব করেছি যে, আগামী নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।

গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন আলাদা নির্বাচন হওয়া উচিত, এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, একসঙ্গে ভোট হলে কয়েকটি সমস্যা হবে। প্রথমত, প্রতিটি দল জাতীয় নির্বাচনে প্রতীকের বিজয়ের জন্য খুব সিরিয়াস থাকবে। রিফর্মস আছে কি নেই এটা তখন তাদের ভেতরে কাজ করবে না। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন যদি কোনো জায়গায় দখল হয়ে যায়, রিফর্মসের ব্যালটও দখল হয়ে যাবে। একটার সঙ্গে আরেকটি জড়িত। কোথাও নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেলে রিফর্মসও স্থগিত হয়ে যাবে। যেহেতু দুটোর বিষয় ভিন্ন, তাই আমরা সরকারকেও বলেছি, কমিশনকেও বলেছি) এটা আলাদা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোট তো খুবই সহজ একটি নির্বাচন। গণভোট আলাদা করলে বাড়তি খরচ খুব বেশি হবে না। যে বাক্স গণভোটের জন্য কেনা হবে অথবা জাতীয় নির্বাচনের বাক্সটি আগে কিনলেই সেটা দিয়েই গণভোট হয়ে যাবে। অতিরিক্ত খরচ হবে কেবল ব্যালট পেপার, কালি এবং কর্মকর্তাদের ব্যয়সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে। এটা একটা বিশাল অর্জন। সে তুলনায় এই খরচ বেশি নয়।

গণভোট আগে হলে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না, অথবা গণভোট না হলে জামায়াতের অবস্থান কী হবেএমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, আমরা মনে করি, একই দিনে যদি ভোট হয় তাহলে রিফর্মসের ইস্যুটি গৌণ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে আগে গণভোট করলে ঝামেলা হয়ে যাবে, জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তো এই নির্বাচনে যদি ঝামেলা হয়, আমরা আগে একটু বুঝতে পারব। বরং ভালো যদি নির্বাচন ঝামেলাসহও হয়, তাহলে আমরা অভিজ্ঞতা নিতে পারব, এক্সপেরিমেন্ট করতে পারব, আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি বুঝতে পারব।

নির্বাচন কমিশন তাদের দাবির বিষয়ে কী জানিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো আলোচনা করেনি। তারা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তও নেয়নি। তবে তারা বলেছে সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় তবে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

মোহাম্মদ তাহের বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও অনেক গণভোট হয়েছে। এটি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। সেখানে দেখা গেছে যে ২১ দিনের ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে। আবার ১০ দিনের ব্যবধানেও হয়েছে। সুতরাং এটি করা সম্ভব। গণভোটে শুধু ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট থাকবে।

পিআর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত ভোট পদ্ধতিতে গত ৫৪ বছরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সে কারণে আমরা বলেছি, পিআর পদ্ধতিতে যদি ভোট হয় তাহলে কেন্দ্র দখল, রাতের ভোট বা অনিয়মের ঝুঁকি কমে আসবে। আমরা বলেছি, দুটি পদ্ধতিই বিবেচনা করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত