নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত আপিল আবেদনের ওপর দ্বিতীয় কার্যদিবসে শুনানি হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগে এ শুনানি হয়। আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করে। এদিন আপিলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। এর আগে গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুনানি শুরু করেছিলেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের ওপর গত ২৭ আগস্ট শুনানি শুরু হয়। ওইদিন শুনানিকালে আপিলের অনুমতি মঞ্জুর করে আপিল শুনানি, নাকি রিভিউয়ের ওপর শুনানি নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, এমন প্রসঙ্গ ওঠে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি আপিলের অনুমতি দিয়ে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।
১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে তখনকার বিএনপি সরকার। এ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদনের পর ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আপিল করে রিটকারীপক্ষ। ২০১০ সালের ১০ মে আপিল মঞ্জুর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। গত ২৫ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষে বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন। এরপর পৃথক সময়ে একই বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়।
