সিটি-ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৪ এএম

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের খাগান এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটির তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কার। ভাঙচুর করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, রেজিস্ট্রার অফিস, আইটি বিভাগ, কম্পিউটার ল্যাবসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। এ পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার থেকে সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় খাগান এলাকার ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ হোস্টেলের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী। এ সময় অসাবধানবশত তার ফেলা থুতু ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলে হামলা চালান। এ সময় বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনা ছড়ায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই ইউনিভার্সিটির হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। রাত ১২টার দিকে শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও ককটেল ব্যবহার করেন। সংঘর্ষের সময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কার। ভাঙচুর করা হয় আরও পাঁচটি গাড়ি।

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা উজ্জ্বল সরকার বলেন, আমাদের  ইউনিভার্সিটিতে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালানো হয়। ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ায়। সিটি ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এক শিক্ষার্থীর অসাবধানবশত থুতু পড়ার ঘটনা কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করেনি।’

সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহানুর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সময় প্রশাসনিক ভবনের ভেতর থেকে রাত ৩টার দিকে আমরা ১০-১১ জনকে আটক করি। এ সময় ছয়জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠাই।’

অন্যদিকে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজিস বিভাগের ডিন অধ্যাপক বিমল চন্দ্র দাস গতকাল দুপুরে পরিদর্শনে এসে ঘটনাস্থলের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে যে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, সেজন্য আমি সত্যি সত্যি লজ্জিত এবং এর জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে, এটা আমাদের ধারণার বাইরে। এটা যারাই ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর সুলতান মাহমুদ দুটি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেছেন।

রাতভর সংঘর্ষের পর সাভারের সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা : সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার থেকে সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মীর আকতার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত