তফসিলের পর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিএনপি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারা হবেন বিএনপির প্রার্থী এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই আলোচনাও আরও ডালপালা মেলছে। প্রায় সব আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে দলটি বিপাকে রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নও রয়েছে। যদিও সম্প্রতি বিভিন্ন আসনের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা।

সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের খসড়া একটি তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সাংগঠনিক বিভাগ অনুযায়ী চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জ্যেষ্ঠ পাঁচ নেতার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী সেল। জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, প্রত্যেক আসনে একজনই চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন। যদিও ওই আসনে বিকল্প প্রার্থীকেও বেছে রাখছেন নেতারা। সারা দেশকে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে ভাগ করে প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তালিকা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিএনপি। এর আগে প্রার্থীদের ডেকে এনে বা ফোনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। মনোনীত প্রার্থীকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে একাধিক সিনিয়র নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিএনপির দপ্তর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা সবুজ সংকেত পাওয়া দলের মনোনীত নেতাকে ফোন করেন। এবং পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অন্তত ২০০ আসনে দলটির প্রার্থীদের নাম জানা যাবে খুব শিগগিরই। এরই মধ্যে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট করেছেন। তার মতে, প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য যারা প্রার্থী আছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি প্রায়োরিটি তালিকা করেছে দলটি।

তিনি আরও জানান, ‘২০০ আসনে আমরা সিঙ্গেল প্রার্থীকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে খুব শিগগিরই একক প্রার্থীকে সেই সিগন্যাল দেওয়া হবে।’

বাকি আসনগুলো শরিকদের জন্য রাখা হচ্ছে কি না এমন বিষয়ে তিনি জানান, ‘অনেক সমীকরণ আছে, শরিকদের জন্য থাকবে, কিছু আসনে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি এ রকম কিছু আসনও আছে।’

দলটির সিনিয়র এক নেতা জানান, প্রার্থী বাছাই তো অনেক দিন ধরেই চলছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঠ থেকে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রতিবেদন নিয়েছেন। এগুলোর ভিত্তিতেই তিনি প্রার্থী বাছাইয়ের সম্ভাবতা যাচাই করছেন।’

আরেক নেতা জানান, অতীতে সাধারণত মনোনয়নপত্র যেদিন সাবমিট করা হতো, তার ৩/৪ দিন আগে একটা লিস্ট ঘোষণা করা হতো। তবে এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। এবং তা তফসিল ঘোষণার পরই হতে পারে। যদিও অনানুষ্ঠানিকভাবে আগে কিছু প্রার্থীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে গত দুটি বৈঠক উপস্থিত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘আমরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছি, কারণ আসনভিত্তিক আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে, আলোচনা ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যাতে একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই কাজ করে, সেটি নিশ্চিত করতেই আমাদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে।

এর আগে এ সপ্তাহে কয়েক ধাপে অন্তত হাজারখানেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন নীতিনির্ধারকরা। গুলশানের কার্যালয়ে হওয়া ওই বৈঠকগুলোতে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা ছিল ‘আসনকেন্দ্রিক একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই ভোটের মাঠে প্রত্যেককে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে বঞ্চিতদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়তে হবে। বিভেদ ভুলে ধানের শীষ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এবারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট অতীতের চেয়ে ভিন্ন। সবাইকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। প্রত্যেক ভোটারের কাছে ভোট চাইতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। দল মনোনীত প্রার্থীকেও সবার (মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যক্তি ও নেতাকর্মী) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কেউ মনোনয়ন পেলে এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ এমন কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে অন্যরা (যারা মনোনয়ন পাবেন না) মনে কষ্ট পান। এছাড়া যারা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত