একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগপর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। গত ২১ অক্টোবর এক পরিপত্রে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের সংস্থাপন শাখার সহকারী সচিব মো. মমতাজ আল শিবলী ইতিমধ্যে আদেশটি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠিয়েছেন। এ চিঠির আলোকে ইসি এনআইডি মহাপরিচালকসহ সব মাঠ কর্মকর্তাকে বিদেশ সফরসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগেও ডলার সংকটের কারণে বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করে নির্দেশনা জারি করেছিল সরকার। এ ছাড়া ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করাসহ কয়েকটি বিষয় নির্দেশনা জারি করেছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়, বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিপত্র এবং অর্থ বিভাগের ৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখের ৭ নম্বর স্মারকে বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, লক্ষ করা যাচ্ছে যে, জারিকৃত পরিপত্রসমূহের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে বিদেশ ভ্রমণের ঘটনা ঘটছে। মন্ত্রণালয়সমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একই সময়ে বৈদেশিক সফরে যাচ্ছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা একসঙ্গে বিদেশে যাচ্ছেন। এ ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই এ কার্যালয়ে প্রেরণ করা হচ্ছে, যা নির্দেশনাসমূহের পরিপন্থী। এমতাবস্থায়, ইতোপূর্বে জারি করা সকল বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন এবং এখন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
গত বছর ৯ ডিসেম্বর সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করাসহ কয়েকটি বিষয় নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সাধারণভাবে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে; বছরের সম্ভাব্য বিদেশ ভ্রমণের একটা তালিকা জানিয়ে রাখতে হবে; বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এর কাঠামো তৈরি করে দেবে এবং এর তথ্য সংরক্ষণ করবে; সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা একাধারে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করবেন; মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করবেন। তবে জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ ভ্রমণ একান্ত অপরিহার্য হলে তেমন অপরিহার্যতার বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীন অধিদপ্তর বা সংস্থা প্রধানরা ‘একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ’ ছাড়া একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে না যাওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, বিদেশে অনুষ্ঠেয় সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন, সেই তথ্য যুক্ত করে দিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পেশের সময় ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রস্তাবিত কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।
কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন কিংবা ফ্যাক্টরি একসেপ্টেন্স টেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বিবেচনা করা এবং সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করার কথাও বলা হয়। এ ছাড়া সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে বিনোদন ভ্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষণ ছুটিতে যাওয়া পরিহারের পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত সংযুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে।
