জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ নেই

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান সংকট অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি করেছে। মিথ্যা বলে জাতির সঙ্গে প্রতারণা না করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ ৭ নভেম্বরের চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নির্বাচনে বিএনপি বাধা দিচ্ছে’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের যে অভিযোগ করেছেন তার জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যত বাধা এসেছে, সব আপনারা দিয়েছেন। জনগণকে বোকা বানাবেন না।’

জামায়াতের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরই আমাদের জন্মভূমি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে গোলমাল আখ্যা দিয়েছিল, কিন্তু জাতি সেটা ভুলে যায়নি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অভ্যুত্থানের তিন মাসের মধ্যে যদি নির্বাচন হয়ে যেত, তবে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পেত না। আমাদের ঘোষিত ৩১ দফায় সব সংস্কারের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমরা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান করছি। পিআর অনুষ্ঠিত হবে কী হবে না, তা আগামী সংসদ নির্ধারণ করবে। পিআর না হলে নির্বাচন হবে না এ কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবুও সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি। রাস্তায় নামিনি। প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করিনি। একটি দল আন্দোলন করে সব চাপিয়ে দিতে চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণভোটের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও রাজি হয়েছি। তারা এখন গণভোট আগে চায়। নির্বাচন ঘিরে প্রধান উপদেষ্টার ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কারা করতে পারে তা স্পষ্ট করা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধকে নিচে নামিয়ে দিয়ে চব্বিশের আন্দোলনকে বড় করে দেখাতে চায়। বিএনপি ১৫ বছর সংগ্রাম করেছে। তারা এককভাবে কৃতিত্ব দাবি করলে আমরা মানতে রাজি নই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। কারণ একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব। অতীতকে স্মরণ করেন। তারা (স্বাধীনতাবিরোধীরা) মুক্তিযুদ্ধকে গোলমাল বলার চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হত্যা করেছে তারা।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘হাসিনা গণমাধ্যমে কথা বলছে, কিন্তু ক্ষমা চায়নি। সে ভারতে বসে অপপ্রচার চালাচ্ছে, ভারতকে বলব, হাসিনাকে ফেরত দিন। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নজমুল হক নান্নু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান।

যারা ফেতনা সৃষ্টি করে বিভেদ করতে চায় তাদের কাছ থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনৈতিক ফায়দা হিসেবে ব্যবহার করে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চায়, এতে দেশের ক্ষতি হয়। আমরা মদিনার ইসলামের চর্চা করি। আমরা মওদুদি ইসলামের অনুসারী না। যারা ফেতনা সৃষ্টি করে বিভেদ করতে চায় তাদের কাছ থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।’

গতকাল শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাসেমী পরিষদ আয়োজিত ‘আজমাতে সাহাবা’ নামে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা নিতে হবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট সরকার ইসলাম, মুসলিম ও আলেম বিদ্বেষী রাজনীতি করত। তাদের নির্মম পতন হয়েছে। তাই আমাদের আদর্শের রাজনীতি করতে হবে, যাতে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতি বিলুপ্ত হয়। আমাদের ভালো রাজনীতির সংস্কৃতি চালু করতে হবে। এতেই দেশে অপরাজনীতি বিদায় হবে।

মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মাওলানা মনির হোসেন কাশেমী। বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের খলিল আহমাদ কুরাইশী, জমিয়তে ওলামা ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাসিরউদ্দিন মনির, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও মাসুদুজ্জামান মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, হেফাজত ঢাকা মহানগরের সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত