সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী মহাকাশে পাঠাল চীন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

চীন দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী নভোচারীসহ তিন সদস্যের একটি নভোচারী দল তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে চারটি ইঁদুর। গতকাল শনিবার শেনঝৌ-২১ নামের মহাকাশযানটি তিয়ানগং স্টেশনে পৌঁছায়। এর আগে, শুক্রবার চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-২এফ রকেটের সাহায্যে শেনঝৌ-২১ মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। 

এই অভিযানে চীনের মহাকাশচারী দলের সদস্যরা রয়েছেন, যার মধ্যে একজন চীনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী। এই মিশনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নভোচারীদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে চারটি কালো ইঁদুর। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই এই ইঁদুরগুলোকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ২০২২ সালে স্থায়ীভাবে বসবাসযোগ্য অবস্থায় গড়ে ওঠা চীনের মহাকাশ স্টেশনে এটি সপ্তম মানববাহী মিশন। শেনঝৌ সিরিজের মহাকাশযানগুলোতে সাধারণত তিনজন মহাকাশচারী ছয় মাসের জন্য মহাকাশে অবস্থান করেন। এই কর্মসূচিতে অভিজ্ঞ মহাকাশচারীদের পাশাপাশি ক্রমে তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শেনঝৌ-২১ অভিযানে প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী ঝাং হংঝাং এবং ৩২ বছর বয়সী উ ফেই। উ ফেই চীনের ইতিহাসে মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে তরুণ মহাকাশচারী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন। তারা দুজনই ২০২০ সালে এই মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই মিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিজ্ঞ মহাকাশচারী ঝাং লু (৪৮), যিনি এর আগে ২০২২ সালের শেনঝৌ-১৫ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন। শেনঝৌ-২১ অভিযানের নভোচারীরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন শেনঝৌ-২০ দলের কাছ থেকে, যারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘তিয়ানগং’ বা নামের চীনা মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান ও কাজ করেছেন। শেনঝৌ-২০ দলের সদস্যরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

তবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে এই প্রথম কোনো ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী নেওয়া হলো। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই এই ইঁদুরগুলোকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর মহাকাশযান উৎক্ষেপণ এখন শেনঝৌ কর্মসূচির একটি নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে চীন মহাকাশ গবেষণায় বেশ কয়েকটি নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো, বিশ্বের দীর্ঘতম সময়ের মহাকাশে হাঁটা (স্পেসওয়াক) রেকর্ড এবং আগামী বছর পাকিস্তানের একজন নভোচারীকে তিয়ানগং স্টেশনে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত