আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী তালিকায় মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ঘোষণার পরপরই এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দলীয়ভাবে ওই আসনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তালিকায় মাদারীপুর-১ আসনে কামাল জামান মোল্লার নাম মনোনয়নপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মনোনয়নের খবর প্রচার হতেই শিবচর এলাকায় বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে সড়ক অবরোধ করেন। তারা স্থানীয় নেতৃত্বকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন ও অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সেই পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল সোমবার (৩ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। অনিবার্য কারণবশত ঘোষিত মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসন ও দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্থগিত রাখা হলো।’
সাতক্ষীরা-মেহেরপুরে বিক্ষোভ-অবরোধ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মাদারীপুরের শিবচর, কুষ্টিয়া সদর, মেহেরপুরের গাংনী এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে বিক্ষোভ করেন তালিকায় নাম না থাকা বিএনপি নেতাদের সমর্থকরা। গতকাল মঙ্গলবারও কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থকরা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে শহরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপি ১৬ বছরের ত্যাগ বিবেচনা করে দলের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নেতৃত্বে তার সমর্থক ও কর্মীরা শহরে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা দলের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণœ করেছে।
তবে জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত অবৈধ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তার সমর্থকরা মিছিল, প্রতিবাদ সভাসহ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, দলের সভাপতিসহ তার সমর্থকরা কেন্দ্র ঘোষিত দলীয় প্রার্থীকে অবৈধ দাবি করে ফ্যাসিস্ট দলের কর্মীদের উসকে দিয়ে যে হঠকারিতা শুরু করেছেন, তা দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা সদরে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীমের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। কালীগঞ্জে ডা. শহীদুল আলমের সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছেন। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-২ আসনে চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। প্রতিবাদে সোমবার রাতে কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন।
রাতে সাতক্ষীরা শহরের বিনেরপোতা বিসিক মোড় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিনেরপোতা মাছবাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন তৃণমূলের পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছেন। তার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মনোনয়ন বঞ্চনা করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
এদিকে সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকায় সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলমের নাম না থাকায় ফুঁসে উঠেছেন দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই ডা. শহীদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রতিবাদ শুরু হয় কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
