ট্রাম্পকে কাঁপিয়ে দেয়া কে এই মামদানি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক।

উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাবা–মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া মামদানি বেড়ে উঠেছেন চিন্তা, সংস্কৃতি ও সক্রিয়তার গন্ডিতে। 

তার মা মীরা নায়ার আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ভারতীয়-আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বাবা মাহমুদ মামদানি উগান্ডার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।  

মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই জোহরান মামদানিকে থামাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন মামদানি। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়ে এখন সরগরম পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন। 

পাঁচ বছর বয়সে পরিবারসহ তিনি উগান্ডা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান এবং দুই বছর পর স্থায়ীভাবে নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। বৈভবের মাঝে শৈশব কাটলেও তিনি স্বীকার করেন তার অভিজ্ঞতা সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর মত ছিলোনা। 

এই প্রেক্ষাপট সত্ত্বেও মামদানির রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে খুব দ্রুত। ২০২০ সালে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে শুরুতে অনেকে তাঁর সম্ভাবনাকে তুচ্ছ করে দেখেছিলেন। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি সব প্রত্যাশা পালটে দেন—জুন মাসে প্রাথমিক নির্বাচনে প্রবীণ রাজনীতিক অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটে জেতেন তিনি।
 
রাজনীতির বাইরে মামদানি সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। হিপ-হপ সঙ্গীতের অনুরাগী হিসেবে তিনি শুধু র‍্যাপ পরিবেশনাই করেননি, নিজে সঙ্গীত প্রযোজনাও করেছেন। তার গানে রাজনীতি ও শিল্পকে মিলিয়ে বিভিন্ন সামাজিক বার্তা প্রতিফলিত হয়। সংগীতের এর বাইরে তিনি নিউইয়র্ক মেটস (বেসবল), নিউইয়র্ক জায়ান্টস (আমেরিকান ফুটবল) ও ইংলিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের নিবেদিত সমর্থক।   

রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান গড়ে উঠেছে মূলত নিউইয়র্কে নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ঠেকাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর প্রচারণার মূল ভিত্তি—নিউইয়র্কের ভয়াবহ বাড়িভাড়ার সংকট সমাধান। ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিন বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটের গড় ভাড়া এখন মাসে ৮ হাজার ৫০০ ডলার—যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। এই বাস্তবতায় ভাড়া স্থিতিশীল রাখা, সাশ্রয়ী আবাসন এর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বাড়িওয়ালাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিশ্রুতিই শহরবাসীর মধ্যে গভীর সাড়া ফেলেছে। 
 
ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য হিসেবে মামদানি আরও ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি ধনীদের ওপর ২ শতাংশ সমান কর, কর্পোরেট কর বৃদ্ধি, বিনামূল্যে বাস সেবা, ঘণ্টায় ৩০ ডলারের ন্যূনতম মজুরি এবং শিশুসেবায় সরকারি সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে জোরালো দাবি তুলেছেন। 
 
তবে মামদানির রাজনীতি কেবল নীতি বা সংখ্যার নয়—এটি মূলত সংযোগ ও সহমর্মিতার রাজনীতি। গত সেপ্টেম্বর দ্য নিউ স্টেটসম্যান–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আপনাকে এমন ভাষায় কথা বলতে হবে সাধারণ মানুষ বোঝে এবং নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মেলাতে পারে। কারো নিজ শহরে টিকে থাকার সামর্থ্য না থাকলে গণতন্ত্র নিয়ে বড় বড় কথা তার কাছে তেমন কোন অর্থ বহন করে না'
 
এই মানবিক ও বাস্তবধর্মী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিই জোহরান মামদানিকে নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতীক করে তুলেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত