স্বৈরাচার তাড়ানো তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যে তরুণরা দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পর্বত সমান হস্তীকে দেশ থেকে তাড়িয়েছে, তারাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।’ গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধি সংবর্ধনা-২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য তরুণদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তরুণরা আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে গড়বে, তার রিহার্সেল হচ্ছে ছাত্রসংসদের মাধ্যমে। সেই তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে চাই। অতীতের কলুষিত ছাত্ররাজনীতিতে আমরা শুনতাম, দেখতাম, ছাত্রসংসদে যারা নির্বাচিত হতো, তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জড়াত, অসৎ উপায়ে রুজি করত। তাই বর্তমান ছাত্রসংসদগুলোতে সততার পরীক্ষায় শতভাগ উন্নীত দেখতে চাই। এখানে এক ভাগ ফেলও জাতি দেখতে চায় না। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। তোমাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে চাই। দেশের ককপিটে তোমাদের বসাতে চাই। তোমরা ককপিটে বসে দেশ পরিচালনা করবা। পেছন থেকে আমরা তোমাদের জন্য দোয়া করব, শক্তি জোগাব। ভুল করলে কানে কানে তোমাদের বলে সংশোধন করাব। কথা না শুনলে হাতে ধরে বকা দেব। যদি তাও না শোনো তাহলে সম্মানের সঙ্গে আসন থেকে জাতিকে সঙ্গে নিয়ে তোমাদের সরিয়ে দেব। রাগ করো না। তোমাদের সেইভাবেই প্রস্তুত হতে হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোর নতুন নেতৃত্ব এমনভাবে গড়ে উঠবে, পরিচালিত হবে যাতে সমাজের সেøাগান ‘নতুন নেতৃত্ব, নতুন বাংলাদেশ’, সেটা আপনাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। আপনাদের নেতৃত্বের মাধ্যমে পাওয়া যাবে নতুন মানচিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণামুখী করতে প্রতিটি ছাত্র সংসদকে সোচ্চার থাকতে হবে। ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য এখনকার তরুণদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়াকে একটি পক্ষ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ ছাত্র-জনতাকে এই অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যে আদর্শিক সংগঠনকে শিক্ষার্থীরা বেছে নিয়েছে জাতীয় নির্বাচনেও চার কোটি তরুণরা তাদের বেছে নেবে। ২৪-এর অভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজ যেভাবে অপশাসনের পতন ঘটিয়েছে, এখন সমাজ থেকে দুর্নীতি বিলোপেও ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই ব্যবসা চলবে না। একই সঙ্গে, সংস্কার প্রস্তাবে ভেটো দিলে তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের থেকেও খারাপ হবে।’
