চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৭ এএম

চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাক্সিক্ষত পর্যায়ে না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এর মধ্য দিয়ে  পেঁয়াজের বাজারের চলমান অস্থিরতার মধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ চাচ্ছে বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতে। 

গতকাল রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, রবিবার ঢাকার বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা দামে। জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে পেঁয়াজের দাম হুট করেই ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে এই পর্যায়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে এই পরিস্থিতি তৈরি করে আমদানিকারকরা সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে যাতে করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া যায়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকায় নেমে এসেছিল। সেটা আমাদের কৃষকদের জন্য উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বহুদিন পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে স্থির ছিল। আমরা গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন ধরে দেখছি পেঁয়াজের মূল্যের একটা ঊর্ধ্বগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো সংকট নেই যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হলে আমরা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত  দেব।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আবেদন পড়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না এলে আমদানি অনুমোদন ইস্যু করা হবে।

এ সময় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, একাধিক কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মৌসুমের শেষ, হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি, পেঁয়াজ সংরক্ষণের সময় শুকিয়ে যাওয়ার পরে ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টা আমরা বাজারের নজর রাখছি। দেশে যথেষ্ট পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মজুদদার বা সিন্ডিকেটের কারণে হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের খবর নেই। সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।

তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য পেঁয়াজ মজুদ করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আমদানির আবেদন পড়েছে। এর ১০ শতাংশ যদি অনুমোদন দেওয়া হয় তাহলে বাজারে পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যাবে। কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ জন্য আমরা সামগ্রিক বিবেচনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

কৃষি মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, চলতি মাসেই ৮৭ হাজার মেট্রিক টন নতুন পেঁয়াজ উঠবে। ডিসেম্বরে আরও আড়াই লাখ টন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এছাড়া সাড়ে ৩ লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ আছে বলেও জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াটাকে সাময়িক সংকট বলেই মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই তথ্যের ওপর নির্ভর করেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সপ্তাহ দেখে পরে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

একই তথ্য দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কৃষি সচিব আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন সেই অনুযায়ী সাড়ে ৩ লাখ টনের মতো পেঁয়াজ আমাদের আছে। এ মাসের মধ্যে আসবে ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী মাসে আসবে আড়াই লাখ মেট্রিক টন। এরপর রেগুলার পেঁয়াজ বাজারে আসবে। আমাদের পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই।’

এই অবস্থার মধ্যেও গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে।

হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমছে : দিনাজপুরের হিলিতে আরেকদফা পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম কমেছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আমদানি হলে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।

গতকাল রবিবার হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সেই সাথে দামও কমতির দিকে। একদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে প্রকারভেদে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে বাছাই করা কিছু বড় আকারের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কিনেছিলাম ৬০- ৬৫ টাকা কেজি দরে। কিন্তু দুদিন আগে সেই পেঁয়াজ কিনতে হয়েছিল ১শ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আমাদের মত নিন্ম আয়ের মানুষদের বেশ বিপাকের মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। এখন আবার দাম কমে ৮০-৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, হঠাৎ করেই দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে পারে। যে কারণে মোকামে পেঁয়াজের দাম কমে এসেছে। মোকামে যে পেঁয়াজ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২শ টাকা মন ছিল সেই পেঁয়াজ এখন দাম কমে ৩ হাজার ২শ টাকায় নেমে এসেছে।

দুদিনের ব্যবধানে মনপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে অন্তত ৫শ টাকা। আমরাও কমে কিনতে পারায় কমদামে বিক্রি করতে পারছি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হচ্ছে এমন খবর ও প্রশাসনের অভিযান শুরুর ফলে বড় কৃষকরা তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজ কম দামে ছেড়ে দিচ্ছেন। সেই সাথে যেসব অসাধু মজুতদার পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন তারাও মজুদকৃত পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে করে মোকামে আগের চেয়ে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত