শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও পোর্টল্যান্ডের মতো বড় শহরে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে প্রতিদিনই বিক্ষোভ দেখা যায়। কিন্তু একসময় অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের সীমান্ত শহর এল পাসো এখন আশ্চর্য রকম নীরব।
মাত্র এক বছর আগেও হাজারো অভিবাসী শহরের রাস্তায় ও আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় জমাতেন। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়। এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে— যেখানে আগে হাজার মানুষ আশ্রয় নিত, এখন হাতে গোনা কয়েকজন রয়েছেন। তাদের অনেকেই কাজের অনুমতি বা অস্থায়ী থাকার মর্যাদা হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে।
গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের এক হাজার নয়শ মাইল জুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সীমান্তজুড়ে আটক হয় মাত্র এগারো হাজারের কিছু বেশি মানুষ— যা দুই বছর আগের একই মাসে আটক দুই লক্ষাধিক মানুষের তুলনায় অতি নগণ্য। কর্মকর্তারা বলছেন, আশ্রয়ের নিয়ম কঠোর করা, মেক্সিকোর সীমান্ত নজরদারি জোরদার, সামরিক সহায়তায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ব্যাপক দেশান্তর কার্যক্রমই এই পতনের মূল কারণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। বাইডেন প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসন-সহায়ক নীতি বাতিল করতে সফল হয়েছেন ট্রাম্প বলে মনে করে হোয়াইট হাউজ।
এল পাসোর অনেক রক্ষণশীল বাসিন্দা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন বাইডেনের সময় সীমান্ত ছিল পুরোপুরি বিশৃঙ্খল। তবে অন্যদের মতে, নতুন নীতিগুলো অতিমাত্রায় কঠোর হয়ে পড়েছে। নিরপরাধ ও দীর্ঘদিন ধরে দেশে বসবাসরত মানুষদেরও দেশছাড়া করা হচ্ছে,পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলছেন,সীমান্তে শান্তি ফিরে এলেও এর মানবিক মূল্য ভয়াবহ। লাস আমেরিকাস ইমিগ্রান্ট অ্যাডভোকেসি সেন্টারের মারিসা লিমন গারজা বলেন,'মানুষ এখন বুঝতে পারছে তারা প্রতারিত হয়েছে,যে নীতিকে তারা সমর্থন করেছিল এখন সেই নীতিই তাদের প্রতিবেশীদের ক্ষতি করছে'
