তুরস্কে ইউক্রেনের সঙ্গে ফের শান্তি সংলাপ শুরু করতে চায় রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যালেক্সেই পোলিশচুকের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি করার মতো কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নেবে না বলে আশা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গত বুধবার তাসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পোলিশচুক। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের কারণে শান্তি আলোচনা স্থগিত আছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা বারবার তাদের আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এখন বল ইউক্রেনের কোর্টে। কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের আবেদনকে ঘিরে কয়েক বছর টানাপড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। অভিযান শুরুর পর আট মাসের মধ্যে ইউক্রেনের দুই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোরিজ্জিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের বড় অংশ দখল করে রুশ বাহিনী। ওই বছরই ইউক্রেনের এই চার প্রদেশকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মস্কো।
যুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পর প্রথম বেলারুশে শান্তি সংলাপ শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। কিন্তু এক সপ্তাহ পর তা ভেস্তে যায়। এরপর ২০২৩ সালে তুরস্কের আঙ্কারায় ফের শান্তি সংলাপ শুরু হয় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে। কিন্তু দু’সপ্তাহ চলার পর সেটিও পণ্ড হয়ে যায়। সে অচলাবস্থার পর চলতি বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শান্তি সংলাপ শুরু হয় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে। কিন্তু দু’মাস সংলাপ চলার পর গত ২৩ জুলাই থেকে তা স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে একই দিনে তাসকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেবে না বলে আশা মস্কোর। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে ছিলেন। ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থান তিনি পুরোপুরি বুঝতে চেয়েছেন এবং একটি টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার অঙ্গীকার দেখিয়েছেন। ল্যাভরভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ বিচারবুদ্ধির গুরুত্ব দেবে এবং চলমান সংঘাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলেই আশা করছি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং রুশ সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক অবকাঠামো স্থাপনই যুদ্ধের প্রধানতম কারণ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। গত আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়।
