নীলফামারীতে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি শ্রমিকদের

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড রক্ষার্থে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়া সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে শ্রমিকেরা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (উত্তরবঙ্গ) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর(নির্বাহী পরিচালক) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নাজমুল হোসেন, শরিফুল মন্ডল, রাবেয়া বেগম, আসমা বেগম, ইয়াসমিন, রুবেল রানা, আব্দুর রহমান, সুজন ইসলামসহ অনেকে।

তারা বলেন, আমাদের এই কারখানা শুধুমাত্র একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমাদের জীবিকা, আমাদের পরিবারের স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের ভরসাস্থল। কারখানার শান্তি, স্থিতিশীলতা আর সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। কিন্তু কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠির ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের উচিৎ, আমাদের নিজেদের ও পরিবারের স্বার্থে, কারও উস্কানীর ফাঁদে পা না দেওয়া।

তারা আরও বলেন, আমরা আর কোনও বিশঙ্খলা চাই না। আমরা আমাদের কর্মস্থল চাই, আর কোনও আন্দোলন চাই না। ইপিজেড চললে শ্রমিক বাঁচবে, শ্রমিক বাঁচলে পরিবার বাঁচবে।

এদিকে, শ্রমিকদের একের পর এক দাবির প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়েছিল উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত এভারগ্রীণসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান। ফলে, কারখানার সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও উৎপাদন না থাকায় আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ওই কোম্পানিগুলো। এভাবে চলতে থাকলে, একদিন পুরো ইপিজেডই বন্ধ হয়ে যাবে। আবারও মুখ থুবরে পড়বে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিক-মালিক। ফলে আন্দোলন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকেরাসহ স্থানীয়রা বলছেন, আন্দোলন হটাও, ইপিজেড বাঁচাও।

একসময়ে রংপুর অঞ্চলের মঙ্গাপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল নীলফামারী। এ জেলায় উত্তরা ইপিজেড স্থাপিত হবার পর থেকেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে এ অঞ্চলটিতে। খড়ের ঘর এবং চরম দারির্দ্যের দৃশ্যে এখন বিলীন। সেখানে কাজ করে জীবন-জীবিকা পরিবর্তন করছে এ অঞ্চলটির প্রায় ৪০ হাজার নারী-পুরুষ। সচেতন মহল বলছেন, এটি চলমান থাকলে, উন্নয়নের উচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে এ অঞ্চলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত