খাদ্যে বাড়তি পুষ্টি যোগ করতে সনদ নিতে হবে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৫ এএম

গুণমান উন্নয়নে নির্দিষ্ট পণ্যে নানা ধরনের ভিটামিন বা পুষ্টিকণা যোগ করেন খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা। যেমন চালে ভিটামিন, খনিজ উপাদান যুক্ত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সয়াবিন তেলে ভিটামিন এ-সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যোগ করা হচ্ছে। তবে এখন থেকে চাইলেই যে কেউ কোনো খাদ্যে বাড়তি পুষ্টি উপাদান যোগ করতে পারবে না। এ জন্য দরকার পড়বে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) একটি আইন তৈরি করছে। যে আইনের আওতায় খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিজস্ব কার্যালয়ে এক কর্মশালায় এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় হারমোনাইজকৃত খসড়া নিরাপদ খাদ্য (ফোর্টিফিকেশন) প্রবিধানমালা-২০২৪ এর ওপর কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রবিধানেই এ ধরনের নিয়ম সংযুক্ত করা হচ্ছে। এ সময় রেস্তোরাঁর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি-বিষয়ক নির্দেশিকা শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান, বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুল হক, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকারসহ বিএফএসএ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএফএসএ বলছে, নতুন প্রবিধানমালার খসড়ায় ফোর্টিফাইড খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত খাদ্য ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘ফোর্টিফিকেশন’ সনদ নিতে হবে। এই সনদের মেয়াদ হবে তিন বছর। খসড়া নিরাপদ খাদ্য (ফোর্টিফিকেশন) প্রবিধানমালা, ২০২৫ এ এসব শর্ত রাখা হয়েছে। প্রবিধানমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশের ছয় মাস পর থেকে এ আইন কার্যকর হবে।

বিএফএসএ এর চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, খাদ্য লবণ ও সয়াবিন তেলে ফোর্টিফিকেশন অনেক আগে শুরু হয়েছে। এ দুটি ছাড়া অন্য কোনোটিতে সেভাবে ফোর্টিফিকেশন হয় না। খাদ্য ব্যবসায়ীরা ফোর্টিফিকেশন করতে চাইলে এর জন্য অবশ্যই সনদ নিতে হবে। আইন যথাযথভাবে না মানলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক ক্রেতা ও উৎপাদক থেকে শুরু করে সবাইকে খাদ্য নিরাপদতার বিষয়গুলো পড়তে হবে। কেননা স্বাস্থ্য নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ। তা ছাড়া যে প্রবিধিটির খসড়া করা হয়েছে তাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দরকার। আটা-ময়দা ও চালে ফোর্টিফিকেশন হচ্ছে কিন্তু কোনো আইনে হচ্ছে তা নির্দিষ্ট নেই। এর মধ্য দিয়ে সেই কাজটিই করা হচ্ছে।

কর্মশালায় জাকারিয়া বলেন, আমাদের দেশে রেস্তোরাঁর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বইপত্র বলতে গেলে নেই। সে বিষয়টি সামনে রেখে প্রাথমিকভাবে বইটি করা হয়েছে। বইটি সম্পর্কে বিশিষ্টজনদের পরামর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমরা ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁর জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছি। এটি সবার উপকারে আসবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুলতান আলম বলেন, বোতলজাত তেলেও যথাযথ মাত্রায় পুষ্টি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কোম্পানি সয়াবিন তেলে ভিটামিন এ ফোর্টিফাইট করার কথা থাকলেও বাজারজাত করা সয়াবিন তেল থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, নিরাপদ খাদ্য (ফোর্টিফিকেশন) প্রবিধানমালার (২০২৪) খসড়া উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আসিফ মোহাম্মদ ফুয়াদ হাসান আকাশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত