সম্ভব হলে মন্ত্রীদের দেশেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এটা হলে মানুষ ইতিবাচকভাবে ভাববে। মানুষের মধ্যে যদি ধারণা হয় ক্ষমতাবানরা বিদেশ চিকিৎসা নিতে যায়, সেটা নিজের অর্থেই হোক বা রাষ্ট্রের অর্থেই হোক সেটা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার সংকট আরও বাড়াবে। তারা যদি নিজেরা দেশে চিকিৎসা নিতেন, তাহলে আস্থাটা আরও বাড়ত এটা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
অনেক সময় দেশের বাইরে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অনেক চিকিৎসা আছে দেশে সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা দেশের বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া দোষের কিছু নয়। অপরিহার্য বিবেচনায় দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতেই পারেন একজন মন্ত্রী। দেশে যদি চিকিৎসা অ্যাভেইলেবল না থাকে, সে ক্ষেত্রে সে বিদেশ যেতেই পারেন। যেহেতু জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই এর যথাযথ দালিলিক প্রমাণসহ হিসাব দাখিল করতে হবে। অডিটসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র থাকতে হবে। বিল-ভাউচার ছাড়া মোটাদাগে একটা অঙ্ক বলা হলো আর সেটি পেমেন্ট করতে হবে এটা হতে পারে না। এটা হলে কোনো জবাবদিহিমূলক বা সুশাসন নিশ্চিত হবে না। এটা হলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের যে মূল্য আছে সেটার স্বীকৃতি দরকার। চিকিৎসার টাকা কমবেশি হয় সেটার যদি দালিলিক প্রমাণ থাকে তাহলে বিষয় নয়। যেহেতু চিকিৎসা বিদেশে হয়েছে সেটা কমবেশি হতেই পারে। তবে গ্রহণযোগ্য হবে যদি পর্যাপ্ত বিল ভাউচার থাকে। সাপোর্টিং ডকুমেন্টের ভিত্তিতে যদি পেমেন্ট করা হয়, তাহলে সমস্যা নেই। সেটা ছাড়া যদি ঢালাওভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেটা ক্ষমতার অপব্যবহার।
যদি বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়ে সেখানে ভাতার বিষয় নয়, জরুরি চিকিৎসাটা হচ্ছে মুখ্য। এই সুযোগটা ব্যক্তিগত সুবিধা হিসেবে না দেখাই ভালো। অনেক সময় দেখা যায় মন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে আরও সহযোগী বা তার সহযাত্রী হিসেবে যান এবং তারাও ওই সুবিধাগুলো ভোগ করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করা উচিত।
