ইতালির সংসদ নারী হত্যাকে (ফেমিসাইড) স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন অনুমোদন করেছে এবং এর জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নারী সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবসে এই রায়ের পক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র-ডান সরকার এবং কেন্দ্র-বাম বিরোধী দলের দ্বিপাক্ষিক সমর্থনে আইনটি পাশ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জিওরজিয়া মেলোনি সমর্থিত এই আইন লিঙ্গভিত্তিক অপরাধ যেমন স্টকিং এবং রিভেঞ্জ পর্নের জন্য শাস্তি কঠোর করেছে। ইতালিতে ২০২৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জুলিয়া চেচেটিন হত্যার মতো ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধির উত্তরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মেলোনি জানিয়েছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোর তহবিল বৃদ্ধি, জরুরি হটলাইন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হয়েছে। তবে কেন্দ্র-বাম বিরোধীরা বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মূল কারণ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য এখনও সমাধান হয়নি।
ইতালির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে ১০৬টি ফেমিসাইড ঘটেছে, যার মধ্যে ৬২টি ঘটেছে বর্তমান বা প্রাক্তন সঙ্গীর দ্বারা। এই আইন স্কুলে যৌন ও আবেগজনিত শিক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত, যা এখনও বিতর্কিত। ইতালির সরকার এখন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য যৌনশিক্ষা নিষিদ্ধ করেছে এবং উচ্চমাধ্যমিকের জন্য অভিভাবকের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছে।
বিরোধী নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র শাস্তি যথেষ্ট নয়; প্রতিরোধ শিক্ষা থেকেই শুরু হওয়া উচিত, যাতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কার্যকরভাবে কমানো যায়।
