অল্প বয়সে চুল পাকা রোধে করণীয়

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম

বর্তমান সময়ে অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুই সৌন্দর্য সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যেরও একটি সূচক হতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত, রোগজনিত, পুষ্টি ঘাটতি এবং জীবনধারার অভ্যাস—সবই চুল অকালপক্ব হওয়ার পিছনে ভূমিকা রাখে।

চুল পাকার প্রাকৃতিক বয়স ভিন্ন জাতি ও বংশের ওপর নির্ভর করে। ককেশীয়দের মধ্যে সাধারণত ২০–২৫ বছর বয়সে চুল পাকতে শুরু করে। আর ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে এটি প্রায় ৩০ বছর বয়সে শুরু হয়। তবে এর আগে যদি চুল রঙ হারায়, তাহলে তাকে ‘অকালপক্ব চুল’ বা প্রিমেচিউর গ্রে হেয়ার বলা হয়। চুলের রঙ নির্ধারণ করে ত্বকের মেলানো সাইট নামক কোষের মেলানিন উৎপাদন। যখন এই কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়, চুলের রঙ সাদা হতে শুরু করে।

চুল অকালপক্ব হওয়ার প্রধান কারণগুলো:

বংশগত কারণ: পরিবারে আগে চুল পাকলে পরবর্তী প্রজন্মেও একই প্রবণতা দেখা যায়।

রোগজনিত সমস্যা: থাইরয়েডের অসুবিধা, অটোইমিউন রোগ, শ্বেতি, অ্যালার্জি, রক্তশূন্যতা এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগ অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ হতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি: ভিটামিন বি-১২, বি-৬, বায়োটিন, ভিটামিন ডি-৩, ভিটামিন ই, আয়রন ও কপার কম থাকলে চুল দ্রুত সাদা হতে পারে।

ওষুধের প্রভাব: কেমোথেরাপি ও কিছু ম্যালেরিয়ার ওষুধ সাময়িকভাবে চুল পাকার কারণ হতে পারে।

মানসিক চাপ ও অভ্যাস: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ধূমপান এবং মদ্যপানও চুল অকালপক্ব হওয়ার সঙ্গে যুক্ত।

সমাধান ও যত্ন:

চিকিৎসকরা বলছেন, চুল পাকার কারণ যদি কোনও রোগ হয়, তবে সেই রোগের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চুলের আগাম পক্বতা কিছুটা ধীর করা সম্ভব। এছাড়া সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। শাক-সবজি ও ফলমূল খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান পরিত্যাগ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন।

যারা বংশগত কারণে চুল পাকার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য চুল সম্পূর্ণভাবে অকালপক্ব হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে চুল পড়া বা অল্প বয়সে চুল পাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে স্টেম সেল থেরাপি, গ্রোথ ফ্যাক্টর এবং পিআরপি চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত