শিশুকে ভালো কাজে উৎসাহিত করার উপায়

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫১ এএম

শিশুর কোমল মন সহজেই ভালো কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায়। পরিবারে তারা যা দেখে, তাই শেখে। তাই শৈশব থেকেই তাদের মননে সৌন্দর্য, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার প্রয়োজন হয়। ছোট ছোট কাজের মধ্যেই মানবিকতার বীজ বোনা যায়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, অন্যকে পানি পান করানো, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া কিংবা হাসিমুখে কথা বলা, এ ধরনের সহজ অভ্যাসই তাদের চরিত্রকে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলামের শিক্ষায় এসব কাজ শুধু শিষ্টাচার নয়, বরং সওয়াবের কারণও। শিশুকে ভালো কাজে অভ্যস্ত করতে পারলে তারা বড় হয়ে সমাজ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করতে শিখবে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: নিজের শোয়ার ঘর, বাড়ি, স্কুল ও চলাচলের রাস্তা পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব শিশুকে শেখাতে হবে। যেন সে নিজে যেখানে-সেখানে চিপস, চকোলেট বা অন্য কোনো খাবারের প্যাকেট অথবা অন্য কোনো ময়লা না ফেলে। আর কেউ ফেললে সে যেন তা তুলে নির্ধারিত স্থানে ফেলে দেয়। পরিবেশ সুন্দর রাখার প্রচেষ্টা ইসলামের দৃষ্টিতে সদকাস্বরূপ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা একটি সদকা।’ (সুনানে আবু দাউদ)

অন্যকে পানি পান করানো : বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের খাবারের পানি দেওয়া হয়। এই পানি সে নিজে পান করবে এবং অন্যকেও করতে দেবে। কেননা পানি পান করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং তা উত্তম সদকা। হজরত সাদ বিন উবাদা (রা.) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! উত্তম সদকা কোনটি? তিনি বলেন, পানি পান করানো।’ (সুনানে নাসায়ি)

প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার : শিশুদের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের বাড়িতে উপহার পাঠানো, তাদের ভালো-মন্দের খোঁজ নিতে পাঠানো উচিত। এতে সে সামাজিক হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করার মাধ্যমে সে সওয়াব লাভ করতে পারবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে।’ (আদাবুল মুফরাদ)

উপকারীর জন্য দোয়া করা : কেউ কোনো উপহার দিলে, উপকার করলে বা সাহায্য করলে তার জন্য দোয়া করেও শিশুরা সওয়াবের অধিকারী হতে পারে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে তোমাদের জন্য কোনো ভালো কাজ করে তাকে প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দোয়া করো যতক্ষণ না দোয়া তার ভালো কাজের সমপরিমাণ হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ) উপকারীর জন্য দোয়া করার সহজ পদ্ধতি হলো ‘জাযাকুমুল্লাহু খায়ের’ (আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলা।

প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া : গৃহপালিত প্রাণী ও বৃক্ষ-তরুলতার প্রতি দয়া করেও শিশুরা সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। কেননা হাদিসে প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণ করতে বলা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো গাছ রোপণ করে অথবা ক্ষেতে ফসল বোনে আর তা থেকে কোনো পোকামাকড় কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ প্রাণী খায়, তাহলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি)

হাসিমুখে কথা বলা : পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেও শিশুরা সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। হজরত রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও একটি সদকা।’ (সুনানে তিরমিজি)

শিশুরাই দেশ ও জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই শিশুকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা দেশ, জাতি ও মানবতার সেবায় নিবেদিত হয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সন্তানদের আমাদের চোখের প্রশান্তি করে দিন। আমিন।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত