এক মুসলামার আরেক মুসলমানের জন্য স্বাভাবিকভাবে হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করা একটি শরিয়তসম্মত বৈধ। নেক আমল বা দোয়ার মধ্যে দিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে হায়াত বৃদ্ধি হওয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। নবী করিম রাসুলুল্লাহ (সা.)ও কোনো কোনো সাহাবির জন্য হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করেছেন।
রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন - ‘যে ব্যক্তি অন্যের জন্যে দোয়া করে, ফেরেশতারা তাঁর জন্য দোয়া করতে থাকে।’[আবু দাউদ: ১৫৩৮]
অন্যের হায়াত বা জীবনের জন্য দোয়া করার একটি বৈধ উপায় হলো ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু ফিহী’ (হে আল্লাহ, তার জীবনে বরকত দিন) । এছাড়া সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা চেয়ে বিভিন্ন দোয়াও করা যায়, যেমন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নবীজি (সা.) এর শেখানো দোয়া।
সাধারণ দোয়া
আল্লাহুম্মা বারিক লাহু ফিহী: হে আল্লাহ, তার জীবনে বরকত দিন।
আসুস্থতার জন্য: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আযহিবিল বাস, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।' এর অর্থ হলো, ‘হে আল্লাহ! মানুষের প্রভু, রোগ দূর করো, সুস্থতা দাও, তুমিই সুস্থতা দানকারী। এমন সুস্থতা দাও যা কোনো রোগকে অবশিষ্ট রাখে না।’
আমল ও অন্যান্য দোয়া
নেক আমল: প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সর্বোপরি ভালো চরিত্র মানুষকে দীর্ঘ ও বরকতময় জীবন লাভে সাহায্য করে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ হায়াতে বরকত দেন।
ইসতেগফার: বেশি বেশি ইসতেগফার (গুনাহ মাফ চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা) করলে আল্লাহ অভাব দূর করে রিজিক বাড়ান এবং সন্তান-সন্ততি দান করেন।
মনে রাখতে হবে: নিজের হায়াত থেকে কিছু অংশ অন্যকে দেওয়ার দোয়া করা যায় না। কোনো মুসলমানের জন্য স্বাভাবিকভাবে হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করা নিচিন্তে ধর্মের বিধি সম্পূর্ণ।
অন্যের জন্য দোয়া করলে ফজলিত
দুর্যোগে মুক্তি পেতে দান-সদকা ও তওবার গুরুত্ব