আর্জেন্টিনায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম

আর্জেন্টিনায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পারিবারিক সহিংসতা এবং নারীহত্যার  (ফেমিসাইড) মত অপরাধ সম্প্রতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতা রিপোর্টের ৩৯ শতাংশই গুরুতর বা পুনরাবৃত্ত আক্রমণের সাথে সম্পর্কিত। ফেমিনিস্ট অবজারভেটরিজ এর তথ্যে দেখা গেছে, শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই ২৯টি ফেমিসাইড ঘটেছে। আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ৩৫ ঘণ্টায় একটি ফেমিসাইড ঘটে। 
 
বিশেষজ্ঞরা এবং আর্জেন্টিনা ভিত্তিক নারী–মুক্তি আন্দোলন 'নি উনা মেনোজ' এমন সহিংসতার জন্য  গঠনমূলক বৈষম্য, দার্শনিক পিতৃতান্ত্রিক প্রথা এবং সরকারি বাজেট হ্রাস কে দায়ী করেছে। সম্প্রতি ১৩টি লিঙ্গভিত্তিক প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে, এবং সহিংসতা প্রতিরোধ ও ত্রাণমূলক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ তহবিল ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৪৩৪ জন এই প্রোগ্রামের আওতায় থাকলেও ২০২৩ সালে এর আওতায় ছিল ১০০,০০০-এর বেশি মানুষ। প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের বাজেট যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে আরও বড় কাটছাটের হুমকি দিচ্ছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কর্মকর্তা ফেমিসাইডকে ফৌজদারি সংহিতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা এবং ফেমিসাইডের বৃদ্ধিকে 'নারীবাদের অতিরিক্ত প্রভাব' হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা ভুক্তভোগীদের উপর দোষ চাপানোর অভিযোগ তুলেছে।

ডিসেম্বর ১০ তারিখে নতুন সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেবার আগে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে,নারী, শিশু  সুরক্ষার জন্য নীতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বাজেট পুনর্বহাল,ক্ষতিকর পদক্ষেপ রোধ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের সহায়তা সহ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত