ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূসের প্রতি ৬৯ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে। জরিপে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ৫৩ শতাংশ এবং বিএনপিকে ৫১ শতাংশ মানুষ পছন্দ করেন। তবে, ভোটের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বিএনপি। ৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে এবং ২৬ শতাংশ মানুষ জামায়াতকে ভোট দেবেন বলেছেন। জরিপটি করেছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই জরিপটি গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রায় পাঁচ হাজার নারী- পুরুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। আইআরআইয়ের পক্ষে ‘সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ’ দেশ জুড়ে এ জরিপ পরিচালনার পর আইআরআইয়ের ওয়েবসাইটে গত সোমবার জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। দেশের ৬৩টি জেলার (রাঙ্গামাটি ছাড়া) ৪ হাজার ৯৮৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মতামত নেয় আইআরআই। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৪১০ জন। নারী ২ হাজার ৫৭৫ জন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিকে ‘ভালো’ নাকি ‘মন্দ’ মনে করছেন? ২৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ‘খুবই ভালো’। ৪৩ শতাংশ বলেছেন ‘মোটামুটি ভালো’। সব মিলিয়ে ৭২ শতাংশ মানুষ দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে, ৭ শতাংশ মানুষের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, এ সময় বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। ৪২ শতাংশ মনে করছেন ভুল পথে এগোচ্ছেন।
অন্তর্র্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ২৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ‘খুবই ভালো’। ‘মোটামুটি ভালো’ বলেছেন ৪৪ শতাংশ মানুষ। সব মিলিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন ৭০ শতাংশ মানুষ। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ১৫ শতাংশ বলেছেন, বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার ‘মোটামুটি খারাপ’ করছে। ১১ শতাংশের মতে, এ সরকারের কর্মকা- ‘খুবই খারাপ’।
অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘খুবই ভালো’ করছেন বলে মনে করেন ২৬ শতাংশ মানুষ। ৪৩ শতাংশ মনে করছেন, তিনি ‘মোটামুটি ভালো’ করছেন। সব মিলিয়ে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা রেখেছেন। অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া ১৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘মোটামুটি খারাপ’ করছেন। ৯ শতাংশের কাছে প্রধান উপদেষ্টার কর্মকা- ‘বেশ খারাপ’।
জরিপে অংশ নেওয়া লোকদের রাজনৈতিক দল হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে জামায়াতে ইসলামী। ৫৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা জামায়াতকে পছন্দ করেন। আর বিএনপিকে পছন্দের কথা বলেছেন ৫১ শতাংশ মানুষ। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) পছন্দ করেন ৩৮ শতাংশ মানুষ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি পছন্দের কথা জানিয়েছেন ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পছন্দকারী আছেন ২৫ শতাংশ মানুষ।
যদি আগামী সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হয়, তাহলে কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন এমন প্রশ্নে ৩০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা বিএনপিকে ভোট দেবেন। ২৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চান জামায়াতকে। এরপর এনসিপিকে ৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে ৫ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চান। জরিপে অংশ নেওয়া ১১ শতাংশ মানুষ বলেছেন উল্লিখিত রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা ভোট দেবেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ৬৬ শতাংশ বলেছেন, তারা ভোট দেবেন। ২৩ শতাংশ বলেছেন, কিছুটা সম্ভাবনা আছে। ৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম। ২ শতাংশ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ২২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, দ্রব্যমূল্য এখনো বেশি। ১৮ শতাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। গণতন্ত্রের অভাব বোধ করেন ৮ শতাংশ। আর ৬ শতাংশের মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো কম এবং দুর্নীতি বাড়ছে। তাদের মতে, এগুলো দেশের অগ্রযাত্রার পথকে বিচ্যুত করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এককভাবে কোনো সমস্যাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রশ্নের জবাবে ২১ শতাংশ মানুষ বলেছেন দুর্নীতির কথা। ১৮ শতাংশের মতে, সেটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপরাধ আর সন্ত্রাসবাদকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মনে করেন ১২ শতাংশ। ৮ শতাংশের মতে, বেকারত্ব। নির্বাচনীব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলে সংস্কারকে প্রধান সমস্যা বলেছেন ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ৬ শতাংশের মতে, প্রধান সমস্যা মাদক। তবে, দেশ নিয়ে আশাবাদী কি না এমন প্রশ্নে ৪২ শতাংশ মানুষ বলেছেন তারা খুবই আশাবাদী। মোটামুটি আশাবাদী বলেছেন, ৩৮ শতাংশ। ১১ শতাংশ বলেছেন, জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি কি দেশ নিয়ে আশাবাদী। জবাবে ‘খুবই আশাবাদী’ বলেছেন ৪২ শতাংশ মানুষ। ‘মোটামুটি আশাবাদী’ বলেছেন ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ১১ শতাংশ বলেছেন, তাদের আশা ‘খুবই ক্ষীণ’। আর ‘একটুও আশাবাদী নন’ এমন বলেছেন ৬ শতাংশ মানুষ।
