কাজ করুন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩২ এএম

শিক্ষাজীবনে পেশাদার জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি উপায় হলো, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করলে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতি, আদবকেতা সম্পর্কে জানা যায়, অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। শিক্ষাজীবনে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের গুরুত্ব জানাচ্ছেন লিজা চৌধুরী

নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ : যে পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান সে পেশাসংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করলে নিজের আগ্রহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। দূর থেকে দেখে, জেনে যেকোনো পেশা সম্পর্কে আগ্রহ হতে পারে। তা ছাড়া কোনো পেশাকে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণের জন্য আগ্রহই শেষ কথা নয়। যেকোনো পেশায় সফল হতে হলে সে পেশায় আগ্রহের পাশাপাশি সহজাত দক্ষতারও প্রয়োজন হয়। স্বতঃস্ফূর্ত দক্ষতায় কর্মসম্পাদন করতে পারছেন কিনা বা দূর থেকে যতটা মনে হচ্ছে বাস্তবেও পেশাটি ততটা আকর্ষণীয় কিনা তা জানতে পারবেন সেক্ষেত্রে কাজ করলে। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পেশাসংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নেওয়া হতে পারে ভালো সিদ্ধান্ত।

দক্ষতা অর্জন : শিক্ষাজীবনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে পেশাজীবনেও লাভবান হওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে যে বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান সে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান বা কাজের ক্ষেত্রকে বাছাই করতে পারেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার। এর ফলে পেশাজীবনে প্রবেশের আগেই কাজটিতে দক্ষতা অর্জিত হয়। তা ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বেচ্ছাসেবীকে একটি সনদ প্রদান করে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ, যা পেশাগত জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

নেটওয়ার্ক তৈরি : স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে নানা পেশার ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মনমানসিকতা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ও আলাপের ফলে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। যার ফলে সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন কিছু করার সুযোগ গড়ে ওঠে।

বাড়বে আত্মবিশ্বাস : শিক্ষার্থী জীবনে অনেকেই নানা কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগে। শিক্ষাজীবন শেষ হয় কিন্তু এই হীনম্মন্যতা শেষ হয় না। এ কারণে অনেকেই চাকরির আবেদন করতেও ভয় পান। স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি তার সুপ্ত প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারে, কাজে লাগাতে পারে। ফলে তার হীনম্মন্যতা দূর হয়। কাজে সফলতা পান। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তার এই সফলতা কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাকে সাহস জোগায়।

কর্মক্ষেত্রের আদবকেতা সম্পর্কে জানা যায় : শিক্ষার্থী জীবন হলো পেশাগত জীবনের প্রস্তুতিকাল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতাও সফল ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রের আদবকেতা। কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতি শেখার চমৎকার একটি উপায় স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নেওয়া। কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হলেও প্রায় সব কর্মক্ষেত্রের আদবকেতা একই। অগ্রজদের সম্মান প্রদর্শন, ভুলের দায় নেওয়া, সময়মতো কাজ শেষ করা, দলীয় কার্যক্রমে নিজের দায়িত্ব পালন প্রভৃতি বিষয় আত্মস্থ করতে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তাই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ আগেই কর্মক্ষেত্রের শিষ্টাচারগুলো আয়ত্ত করতে অংশ নিন স্বেচ্ছাসেবায়।

সমৃদ্ধ করবে জীবনবৃত্তান্ত : একটি সমৃদ্ধ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। স্বেচ্ছাসেবা আর কর্মক্ষেত্রের আদবকেতা একই হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবায় অভ্যস্ত প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় রাখেন। সেক্ষেত্রে আপনার জীবনবৃত্তান্তে স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়টি হয়ে উঠতে পারে চাকরিপ্রাপ্তির অন্যতম প্রভাবক। জীবনবৃত্তান্তকে সমৃদ্ধ করতে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করুন।

বিষন্নতা থেকে মুক্তি : রুটিনমাফিক পড়াশোনা করতে গিয়ে জীবন একেঘেয়ে হয়ে পড়ে। বিষন্নতা চেপে ধরে। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে বিচিত্র মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। এই অনন্য অভিজ্ঞতা জীবনকে একঘেয়ে হওয়া থেকে মুক্তি দেয়, দূরে রাখে বিষন্নতা থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত