মাঠ প্রশাসন সাজানোর কাজ শেষ জনপ্রশাসনের

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। সংবিধান মেনে তফসিল ঘোষণার পর দেশের সব প্রশাসনিক কাজ চলবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আলাদা করে কিছু করার থাকবে না।

জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কর্মকর্তাদের রদবল করেছে। এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে ৫০টির বেশি জেলায় জেলা প্রশাসক পদে পরিবর্তন এনেছে। ২৪৩ জন নতুন ইউএনও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ঢাকার ৫০টি থানার ওসি বদল করা হয়েছে। লটারিতে দেশের ৫২৭ থানার ওসিও বদল করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত ৬৪ জেলার ডিসি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ইউএনওরা থাকেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে।

জনপ্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক আছে এমন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন না। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দলীয় সরকারের অধীনে। এ তিনটি নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকাও ছিল বিতর্কিত।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পালন করব। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মাঠ প্রশাসনকে তখন কমিশনের আজ্ঞাবহ থাকতে হয়। কমিশন বিশেষ কোনো দায়িত্ব দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ যদি নির্বাচন করতে চান তবে তিনি পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন। সরকারে থেকে নির্বাচনের সুযোগ কেউ পাবেন না।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ইসি নতুন প্রশাসন দেখে সন্তুষ্ট। আর কোনো বদল আনার প্রয়োজন হবে না।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক, এসপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আনাসের বক্তব্য আমাদের কর্তব্য ঠিক করে দিয়ে গেছে। আমরা বসে থাকব না। সে যে দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছে, সেটা আমরা গ্রহণ করলাম। সে জেনে শুনে গেছে। বলেছে, যদি ফিরে না আসি, আমাকে মাফ করে দিও। সে ফিরে আসেনি, আমাদের দায়িত্ব দিয়ে গেছে। সে কাপুরুষের মতো বসে থাকতে চায়নি। আমরাও কাপুরুষের মতো বসে থাকতে চাই না। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। এটাই আমাদের দায়িত্ব। আমার মনে হয়, তোমাদের (এসপি) কর্মস্থলে যাওয়ার আগে, সবার সঙ্গে আনাসের চিঠিটা যেন থাকে। তোমাদের ঘরে টানিয়ে রাখো। তাহলে আমার হয়তো কথা বলা দরকার হবে না। সেটাই নির্ধারণ করে দেবে আমাদের দায়িত্বটাকে।’

প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনায় বলেছেন, ‘এটা শুধু পাঁচ বছরের সনাতন নির্বাচন নয়, এর আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো গণভোট। সেটা হয়তো বিল্ডিং কোড। সেই বিল্ডিং কোড আমরা তৈরি করে দিয়ে যাব, যা শতবর্ষ ধরে এ দেশকে, জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

নতুন করে সাজানো প্রশাসন নির্বাচনে কেমন ভূমিকা রাখবে জানতে চাইলে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিসি-ইউএনও হলে প্রশাসন আরও নির্ভার থাকত। কিন্তু বিতর্কিত তিন নির্বাচনের সংশ্লিষ্টতার কথা মাথায় রেখে নতুন তালিকা করা হয়েছে। সরকার যে ধরনের নির্বাচন চাইবে, ডিসি-ইউএনও যাকেই করা হোক, তিনি সেই ধরনের নির্বাচনই উপহার দেবেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে ৩০০ বিচারক চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত