নির্বাচন যত সহজ ভাবা হচ্ছে তত সহজ হবে না

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৪ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যতটা সহজ মনে করা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এক বছর, সোয়া বছর আগে যে কথাটি বলেছিলাম, সামনের নির্বাচন যা ভাবছেন তা নয়আজকে আস্তে আস্তে আমার সেই কথা প্রমাণিত হচ্ছে। এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, তাহলে সামনে এ দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। একমাত্র গণতন্ত্রই এ দেশকে বাঁচাতে পারে এবং সেই গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে পারেন আপনারাবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটের হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির পরিকল্পনাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে, দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। তাহলেই জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় সরকার হবে না। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, তাদের পাশাপাশি যারা ভোট দেননি, তাদের জন্যও সমানভাবে কাজ করতে হবে। কারও জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি স্বপ্ন দেখাচ্ছে না, বিএনপি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই। দল যার হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দিয়েছে, তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রার্থী আসতে পারে, প্রার্থী বদলাতেও পারে, কিন্তু দল ও আদর্শ অপরিবর্তনীয় থাকবে।’

অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই। বাস্তবভিত্তিক যে পরিকল্পনা আমরা তৈরি করেছি, তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিলেই হবে। এ কাজ কঠিন, কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করলে অসম্ভব নয়।’

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও দেখছি, অন্য দলের লোকজন মসজিদে গিয়ে তাদের কথা বলছে। তারা যদি বলতে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? বলতে হবে সবাইকে। না বললে কেউ বলতে পারবে না। আপনারা আপনাদের এলাকায় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। বলার অধিকার যদি কারও থাকে, তাহলে সবার থাকবে। কারও জন্য নিয়ম আলাদা, কারও জন্য আলাদাএটা চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা পরীক্ষিত সৈনিক। শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও দলকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের সব ষড়যন্ত্র আপনারা মোকাবিলা করেছেন। তাহলে এখন কেন সামনের এই নির্বাচনী যুদ্ধে জিততে পারবেন না? দলের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে আর কী বাধা? চাইলেই আপনারা পারবেন, করতেই হবে।’

তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে ব্যালট বক্সে নিয়ে আসতে হবে। শুধু মিটিং করে হবে না। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে, মাঠে মাঠে, কৃষকের ক্ষেতে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের কাছে, স্কুলের শিক্ষকের কাছে, মা-বোনদের কাছে, তরুণ-তরুণী ও যুবকদের কাছে যেতে হবে। আপনি যদি না যান, অন্যরা গিয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। আপনি মাঠে নামলেই মিথ্যার জবাব দেওয়া যাবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘একটি ভিডিও দেখেছি, কয়েকজন মহিলা এক মাকে বাচ্চার মাথায় হাত দিয়ে শপথ করাচ্ছিল। সেই মা প্রতিবাদ করেছেন। এমন ঘটনা ঘটছে। আপনারা মাঠে নেমেছেন বলেই আজ জনগণ সাহস পাচ্ছে। আরও বেশি নামলে প্রতিবাদ আরও বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে তারেক রহমানের ‘খুব শিগগিরই’ দেশে ফেরার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশের সব নেতা এখানে উপস্থিত, আমি আপনাদের জানাতে চাইআমাদের নেতা খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। যেদিন তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন, সেদিন যেন গোটা বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। পারবেন তো? ইনশাআল্লাহ। আমরা সেদিন গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দেব।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা সামনে এগোতে চাই, প্রগতির পথে এগোতে চাই। আমাদের নেতার চিন্তাভাবনা ও ভিশন বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ১৯৭১ আমাদের অস্তিত্বের বছর। আজ পত্রিকায় দেখলাম, কেউ কেউ ১৯৭১-এর প্রজন্মকে নিকৃষ্টতম প্রজন্ম বলছে। কোন সাহসে এই দুঃসাহস দেখায় তারা?’

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত