আদালতের আদেশে গাজীপুর-বাগেরহাটের বিষয়ে সংশোধন

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৮ এএম

গাজীপুর ও বাগেরহাটের সংসদীয় আসনের সীমানা আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার আহমেদ বলেন, ‘আদালতের স্বাধীনতা বা এখতিয়ার নিয়ে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই। তবে আদালতের রায়ে ইসির সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নের জায়গা থেকে যাচ্ছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত আদালতের রায়গুলো কমিশনের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩০০ আসনেরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। গাজীপুর ও বাগেরহাটের সীমানা আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে। ফরিদপুরের সীমানা জটিলতা নিয়ে আদালতের রায় পেলে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সমান করা হবে, যাতে কেউ অভিযোগ করার সুযোগ না পায়। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোরও সদিচ্ছা প্রয়োজন। কেউ আইন না মানলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে রদবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে রদবদল একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি ও পরামর্শ ছাড়া কোনো রদবদল করা যাবে না।’

পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৬৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর তারা ভোট দিতে পারবেন। আর নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে আরও কিছু সময় লাগবে। আউট অব কান্ট্রি ভোটিং এবং ইন কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। তবে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’

আজ থেকে প্রতি উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই দেশের প্রতিটি উপজেলা ও থানায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান। এ উপলক্ষে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা বা থানায় কমপক্ষে দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় উল্লিখিত সময়ের মধ্যে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য প্রতি উপজেলা বা থানায় অন্যূন দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত