স্কুল জীবনে বার্ষিক পরীক্ষার আগে ক্লাসের শেষ দিনটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য স্মরণীয়। বিশেষ করে যারা দশম শ্রেণির শেষ ক্লাসের মাধ্যমে স্কুল জীবনের ইতি টানে তাদের জন্য নিঃসন্দেহে দিনটি বিশেষ। একজন শিক্ষার্থী একটি শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ঢাকার সাভারে অবস্থিত কাঠগড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক ক্লাসের শেষ দিন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতিকে স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে উৎসাহ দিতে বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়। সকালে ৯টায় প্রাত্যহিক সমাবেশের মাধ্যমে দিনটির সূচনা হয়। অগ্রহায়ণের সকালের মৃদু রোদে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, শপথ গ্রহণ ও জাতীয় সংগীত গাওয়া শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বালক ও বালিকা শাখায় যেসব শিক্ষার্থী সারা বছর নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আদর্শ শিক্ষার্থীর মানদ- বিবেচনায় স্কুলের সেরা শিক্ষার্থীর সম্মাননা পায় দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী নুসরাত আরা মোহনা। এছাড়া পুরো স্কুলে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম স্থান অর্জন করে সপ্তম শ্রেণির মাসুদ রানা, দ্বিতীয় স্থানে নবম শ্রেণির আয়েশা সিদ্দিকী শাম্মী, তৃতীয় স্থানে অষ্টম শ্রেণির রেজওয়ানুর রহমান। এ সম্মাননা শুধু একটি ক্রেস্ট নয়, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। এ সময় অধ্যক্ষ মো. বিল্লাল হোসেন তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জীবনমুখী গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চাইলে পড়াশোনার মাধ্যমে যে কোনো জায়গা থেকেই ফল ভালো করা যায়। এ ক্ষেত্রে মনের ইচ্ছাটাই সবকিছু। তোমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করবে। ফলাফল খারাপ হলে সেই ঘাটতি পূরণ করে আগামীতে কীভাবে ভালো করা যায় তার চেষ্টা করবে। ইচ্ছার মাধ্যমে শিক্ষাজীবনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।’
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা যার যার শ্রেণিকক্ষে চলে যায়। করা হয় বছরের শেষ রোল কল। দিনটি যেন শুধুই শিক্ষার্থীদের জন্য। সবার মুখে ছিল আনন্দের হীরক রেখা। শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে দিনটি কাটায়। ওরা আবার ক্লাস করার জন্য আসবে, তবে তখন হবে নতুন শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লেখক : সহকারী শিক্ষক (বাংলা), কাঠগড়া হাই
স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার
