কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ৫ কৌশল

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৫ পিএম

কোরআনের প্রতিটি হরফে রয়েছে নুর ও হেদায়েতের আলোকচ্ছটা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো, কারণ কেয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হবে।’ হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম গাজালি (রহ.) এই মহামহিম গ্রন্থের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনে পাঁচটি কৌশল অবলম্বনের কথা বলেছেন। তা উল্লেখ করা হলো।

প্রথম কৌশল : আয়াতের মাহাত্ম্য অনুভব করা। কোরআন পাঠের শুরুতে অনুভব করুন এই বাণী অনেক মহান। কারণ এর বক্তা মহান আল্লাহ। হৃদয়ে অনুভব করুন তার আরশ, রাজত্ব, আকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী জিন, মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব। স্মরণ করুন, এগুলোর স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়। সবকিছু তারই ক্ষমতা ও করুণার অধীন। আপনি তার কালাম পড়ছেন এবং এর মাধ্যমে তার গুণাবলি, সৌন্দর্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অবলোকন করছেন।

দ্বিতীয় কৌশল : কোরআনের অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। আপনি যদি কোরআনের প্রকৃত অনুসারী হতে চান তবে তেলাওয়াতের সময় এর মর্মার্থ অনুধাবনে সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অমনোযোগী হয়ে যা পড়েছেন তা পুনরায় পড়ুন। সুন্দর তেলাওয়াতের মূল উদ্দেশ্যই হলো চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করা।

তৃতীয় কৌশল : জ্ঞানের নির্যাস আহরণ করা। কোরআনের প্রতিটি শাখা থেকে আপনাকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। যেমন আপনি মণি-মুক্তা ও কস্তুরী ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করেন, তেমনি কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন অংশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা নিতে হবে। কোরআনকে দশটি ভাগে ভাগ করে এই বিষয়টি সহজ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, কোরআনের যে অংশে আল্লাহর গুণাবলি ও কাজের বর্ণনা রয়েছে, সেখান থেকে তার মহত্ত্ব ও বিশালতার জ্ঞান নিন। যে অংশে সিরাতুল মুস্তাকিম বা সঠিক পথের নির্দেশনা আছে সেখান থেকে দয়া, করুণা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা নিন। যেখানে শত্রুদের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে সেখান থেকে সম্মান, শক্তি ও বিজয়ের শিক্ষা গ্রহণ করুন। আর যেখানে নবীদের জীবনের বর্ণনা রয়েছে সেখান থেকে অনুগ্রহ ও উদারতার শিক্ষা নিন। প্রতিটি বিভাগ থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

চতুর্থ কৌশল : উপলব্ধির পথে বাধাগুলো দূর করার দৃঢ়সংকল্প করা। যা কিছু আপনার বুঝের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে তা পরিহার করতে হবে। যারা আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ তাদের জন্যও দুটি বিশেষ বাধা রয়েছে। প্রথমটি হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা, যা নিয়ত বা সংকল্প থেকে মনকে সরিয়ে দেয়। তেলাওয়াতের সময় উচ্চারণের মাখরাজ বা তাজবিদ নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়িও এক ধরনের বাধা, যা মূল অর্থ থেকে মনকে দূরে সরিয়ে রাখে। যে মন কেবল ঠোঁট ও জিহ্বার নড়াচড়া নিয়ে ব্যস্ত, সে কীভাবে আল্লাহর রাজত্বের গোপন রহস্য দেখবে? দ্বিতীয় বাধা হলো কেবল কোরআনের বাহ্যিক অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। এটি গভীর উপলব্ধির পথে বড় বাধা।

পঞ্চম কৌশল : কোরআনের আলো হৃদয়ে ধারণ করা। কেবল যান্ত্রিকভাবে না পড়ে প্রতিটি আয়াতের অবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিন। যখন রহমত ও ক্ষমার আয়াত পড়বেন তখন খুশিতে আত্মহারা হন। যখন আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির আয়াত আসবে তখন ভয়ে সংকুচিত হয়ে যান। যখন আল্লাহর নাম ও মহত্ত্বের কথা আসবে তখন নিজেকে অত্যন্ত নগণ্য মনে করুন, যেন তার মহিমার সামনে আপনি বিলীন হয়ে যাচ্ছেন। এই প্রভাবগুলো আপনার শরীরেও প্রকাশ পাওয়া উচিত। যেমন ভয়ে কাঁপা, খুশিতে উৎফুল্ল হওয়া। আপনি যদি এই কার্যকলাপ নিজের মধ্যে ধারণ করেন তবেই আপনার সত্তার প্রতিটি অংশ কোরআনের বরকত লাভে ধন্য হবে।

লেখক : শিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত