১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় ইয়ামাল-পেদ্রিদের কিনতে চান সৌদি যুবরাজ!

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৮ এএম

ইউরোপীয় ফুটবলে বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে একটি চমকপ্রদ গুঞ্জন। স্পেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) লা লিগার জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনাকে কিনতে আগ্রহী। শোনা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক এই অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের কথা ভাবছেন তিনি—যা বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়া ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে।

এই সম্ভাব্য আগ্রহের পেছনে রয়েছে বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট। কাতালান ক্লাবটির ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ২.৫ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সৌদি যুবরাজের প্রস্তাবকে কেউ কেউ দেখছেন ‘স্বর্ণালী উদ্ধারপ্যাকেজ’ হিসেবে, যা এক ঝটকায় ক্লাবের দেনা মুছে দিয়ে আবারও আর্থিকভাবে প্রতিযোগিতায় ফেরার সুযোগ করে দিতে পারে।

স্পেনের জনপ্রিয় টিভি শো এল চিরিঙ্গিতো-তে সাংবাদিক ফ্রাঁসোয়া গালার্দোর মন্তব্য থেকেই মূলত এই গুঞ্জনের সূত্রপাত। তার দাবি, সৌদি যুবরাজ সরাসরি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান এবং সে জন্যই বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব প্রস্তুত।

তবে বাস্তবতা হলো, বার্সেলোনাকে কেনা মোটেও সহজ কাজ নয়। ইংল্যান্ডের অনেক ক্লাবের মতো এটি কোনো প্রাইভেট কোম্পানি নয়। বার্সেলোনা পরিচালিত হয় সদস্যদের দ্বারা, যাদের বলা হয় ‘সোসিও’। ক্লাবের মালিকানা বা কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে এই সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ে দৃঢ় এই সোসিওরা অতীতে বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতাও করেছে।

এ কারণে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরো ক্লাব কেনার বদলে বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে সৌদি পক্ষ। সম্ভাব্য একটি মডেল হলো—বার্সেলোনার বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম আলাদা করে সেখানে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) বড় অংশীদার হওয়া। এতে ফুটবল দলের মালিকানা সরাসরি বদলাবে না, আবার ক্লাবও পাবে বিপুল অর্থের জোগান।

এই আগ্রহ যদি বাস্তব রূপ নেয়, তাহলে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে সৌদি আরবের প্রভাব আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। নিউক্যাসল ইউনাইটেড অধিগ্রহণ, সৌদি প্রো লিগে তারকা খেলোয়াড়দের আগমন এবং ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর এবার ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন সেই কৌশলেরই ধারাবাহিকতা।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ড বার্সেলোনার সঙ্গে সৌদি সম্পৃক্ততা তৈরি হলে, ইউরোপকেন্দ্রিক ফুটবল ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এই গুঞ্জন কতটা দূর এগোয় এবং আদৌ কি বাস্তব রূপ পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত