সুলতানাদের ‘চুলু ফার ইস্ট’ পর্বতে সফল আরোহণ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গত বছর ইউনেস্কোর ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রিজিওনাল রেজিস্টার ফর এশিয়া প্যাসিফিক’ তালিকায় স্থান পায়। এই সাহিত্যকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘সুলতানাজ

ড্রিম আনবাউন্ড’ বা ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত’ স্লোগানে গত বছর প্রথমবারের মতো ‘নারীদের শীতকালীন অভিযান’ পরিচালিত হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হলো নেপালের অন্নপূর্ণা হিমালের অন্তস্থিত দুটি ৬০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতে ‘নারীদের শীতকালীন অভিযান ২০২৫ সিজন টু’।

এ বছরও এই অভিযানে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক পেমেন্টস টেকনোলজি ব্র্যান্ড ‘মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ’। এই অভিযানের লক্ষ্য বাংলাদেশের নারীদের দৃঢ়তা, কল্পনাশক্তি ও সাহসিকতা উদযাপন করা।

এই অভিযানে দলনেতা হিসেবে আছেন বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট আরোহণকারী নারী নিশাত মজুমদার। তার সঙ্গী হয়েছেন তাহুরা সুলতানা রেখা এবং ইয়াছমিন লিসা। এ ছাড়াও ট্রেকিং টিমে ছিলেন ‘ট্রেক উইথ নিশাত ২০২৫’-এর মেন্টি নুসরাত জাহান ফাবিহা।

অভিযানের প্রথম এটেম্প নেওয়া হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর পিসাং পর্বতে। বেশ কিছু প্রতিকূলতার কারণে মাত্র ২০০ মিটারের একটু বেশি উচ্চতার ব্যবধান থেকে ফিরে আসতে হয় তখন।

পিসাং পর্বত থেকে ফিরে এসে তারা আরেকটি ৬০০০ মিটারের অধিক উচ্চতার পর্বতে নতুন করে অভিযানের উদ্যোগ নেন।

এবার লক্ষ্য ৬০৫৯ মিটার উচ্চতার চুলু ফার ইস্ট। ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে তারা এই পর্বত চূড়ায় আরোহণ করতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশের নারীদের প্রথম শীতকালীন ৬০০০ মিটারের অধিক উচ্চতার পর্বতারোহণ অভিযান। বাংলাদেশের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন ১৬ ডিসেম্বর; বিজয় দিবসের প্রাক্কালে হিমালয়ের ৬০৫৯ মিটার উচ্চতা থেকে এই তিন নারী স্মরণ করেন স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ বীরাঙ্গনার অবদান। তারা স্মরণ করেন নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে। যার অন্তর্নিহিত শক্তিতেই পরিচালিত হয় নারীদের এই উল্লেখযোগ্য পর্বতাভিযান।

এই অভিযানের সহযোগী হিসেবে আছে ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। অভিযানটি এন্ডোর্স করেছে ‘ইউনেস্কো ঢাকা অফিস’ এবং পরিচালনা করছে পর্বতারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত