এই ফেরা রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের ফেরা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮ এএম

আজ ২৫ ডিসেম্বর। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৭ বছরের চাপিয়ে দেওয়া নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ঘরে ফিরছেন কোটি কোটি মানুষের গভীর ভালোবাসার মানুষ তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক কঠিন সময়। দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকটা জুড়ে যে শূন্যতা বিরাজ করছে, তার ফেরায় এর অনেকটা পূরণ হবে, এমন আশায় বুক বাঁধছে মানুষ। অনেকে ফেলছে স্বস্তির পরম নিঃশ্বাস। বুকের ভেতর জমে থাকা চাপা কষ্ট, ভয় ও অনিশ্চয়তার জায়গায় জন্ম নিচ্ছে নতুন আস্থা, সাহস ও বিশ্বাস। অন্যদিকে, যাদের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তাদের জন্য আজকের দিনটি নিরানন্দের, হতাশার।

তার আগমন শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়। এ যেন আশা ফিরে পাওয়ার দিন, ভরসা পুনরুদ্ধারের দিন, আনন্দে চোখ ভিজে যাওয়ার দিন। শহরের ব্যস্ত রাজপথ থেকে গ্রামের নীরব উঠোন, পাহাড়-সমতল, নদী-চরের প্রান্তিক জনপদ সর্বত্র বয়ে গেছে আনন্দের ঢেউ। মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে একটাই কথা, অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো।

এই আগমন যেন দীর্ঘ অন্ধকার ভেদ করে আলোর মশাল হাতে এক সাচ্চা দেশপ্রেমিকের ফিরে আসা। যিনি শুধু পথ দেখান না, পথের সাহসও জোগান। তার উপস্থিতি মানুষকে আবার স্বপ্ন দেখতে শেখায়, আবার বুক ভরে বাংলাদেশকে ভালোবাসতে শেখায়। কিন্তু এই দিনের কাছে পৌঁছাতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে সতেরো বছরের এক কণ্টকাকীর্ণ, রক্তক্ষয়ী ও অসম লড়াইয়ের পথ। প্রতিটি ধাপ ছিল যন্ত্রণা, প্রতিটি দিন অনিশ্চয়তার, প্রতিটি রাত জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর নীরব বোঝাপড়া।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্বস্তিকর মোড় নেয়। ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দুর্নীতি দমন ও বিচারপ্রক্রিয়ার আড়ালে শুরু হলো ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, যার লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনীতি থেকে দুই শীর্ষ  নেত্রীকে সরিয়ে দেওয়া। এই অভিযানে সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়ে জিয়া পরিবার ও বিএনপির ওপর।

এই প্রক্রিয়ার নির্মম ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানকে। কিছুদিন পর, এপ্রিল মাসে, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়। প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়। জব্দ করা হয়  বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট। ২ সেপ্টেম্বর রাতে ক্যান্টনমেন্টের বাসা  থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মা ও ছেলেকে, একটি পরিবারের ওপর নেমে আসে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।

তারেক রহমানকে একের পর এক রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি অসুস্থ অবস্থায় নিজের কণ্ঠে তুলে ধরেন তার ওপর চালানো অমানবিক নিপীড়নের বিবরণ। জানান, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে অজ্ঞাত স্থানে চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি। পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হলে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও জানান, শারীরিক নির্যাতনের কারণে মেরুদণ্ড  সোজা করে দাঁড়াতে পারছেন না। হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি, খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুতে শোকের ভারে নুয়ে পড়া পরিবারটিকে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপরও থামেনি চাপ। ৫ মার্চ নাইকো মামলায়, ২৩ জুন ও ৯ জুলাই গ্যাটকো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে হয়।

বারবার রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের ফলে তারেক রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগস্টে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসকদের মেডিকেল প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়, তার বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসা প্রয়োজন। নির্যাতনের ফলে মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নম্বর হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও কয়েকটি হাড় বেঁকে গেছে।  মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অংশে দূরত্ব স্বাভাবিক কমে এসেছে।

৩ সেপ্টেম্বর অসুস্থ তারেক রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যান বেগম খালেদা জিয়া। সন্তানের শীর্ণ দেহ, যন্ত্রণাক্লিষ্ট চাহনি দেখে তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েন। সেদিনের সেই কান্না শুধু একজন মায়ের ছিল না, তা প্রতিধ্বনিত হয়ে সারা দেশের মানুষের বুকের ভেতর।

দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ও বেদনাবিধুর এই অধ্যায়ের পর ১১ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শুরু হয় জীবন বাঁচানোর এক বাধ্যতামূলক নির্বাসন। স্বপ্নকে বন্দি করা যায় না, আদর্শকে নির্বাসনে পাঠানো যায় না। সতেরো বছরের নির্বাসন, নিপীড়ন ও নীরব লড়াইয়ের পর আজকের দিন তাই শুধু ফিরে আসার নয়; এ দিনটিতে হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জয়, বিশ্বাসের জয়, মানুষের জয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসে। এরপর শুরু হয় বিএনপিকে দমন ও দুর্বল করার সুপরিকল্পিত অভিযান। এই চক্রান্তের বীজ রোপিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই। লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে ভাঙা,  নেতৃত্বহীন করা। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্ব  সেই ষড়যন্ত্র থামিয়ে দেয়।

ক্ষমতা পাকাপোক্ত হওয়ার পরও সরকার পুনরায় সেই নকশা বাস্তবায়নে নামে। সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম ও হত্যার ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় বর্বরতা। একই সঙ্গে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও দায়ের করা হয় অসংখ্য মিথ্যা মামলা, যার কোনো আইনগত বা নৈতিক ভিত্তি ছিল না। উদ্দেশ্য একটাই তিনি যেন দেশে ফিরতে না পারেন, রাজনীতি করতে না পারেন, দলের  নেতৃত্বে আসতে না পারেন।

বিপরীতে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি বেছে নেয়নি। জাতীয় স্বার্থ ও দলীয় নীতি অনুযায়ী ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। জিয়া পরিবারকে ঘিরে লাগাতার আক্রমণের পরও দল অসাধারণ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

সংসদ নেতা থেকে শুরু করে মহাজোটের সদস্যরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, সংসদীয় শালীনতার সব সীমা লঙ্ঘন হয়েছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে কার্যত একদলীয় শাসনের পথ প্রশস্ত করা হয়। গণতন্ত্রের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। সরকারের জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গত ১৫ বছর ধরে এই সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। সরকার নিজেদের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করেছে। আর বিএনপি দেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে এসেছে। এ কারণে  বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মী গায়েবি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে লাগাতার অপপ্রচার চালিয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল ছিল না। তিনি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, এই আকাক্সক্ষাকেই অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রকাশ্যেই তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, যদি তার বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ প্রমাণ করা যায়, তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি। প্রমাণ হাজিরের বদলে অব্যাহত রাখা হয় মিথ্যাচার ও চরিত্রহননের ধারাবাহিক অভিযান।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই তাকে  কেন্দ্র করে শুরু হয় পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সমস্ত বিরোধিতা তারেক রহমানের নামের সঙ্গে যুক্ত করে। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কল্পিত গল্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসায় ভরা এই প্রচারণা এক ভয়াবহ রূপ নেয়। কিন্তু ভিত্তিহীন এসব প্রচারণা কখনো সত্য প্রমাণিত হয়নি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, শিক্ষক, গবেষক, দেশি-বিদেশি তদন্ত সংস্থা, কেউই তার বিরুদ্ধে  কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি। মার্কিন এফবিআই কর্মকর্তার জবানবন্দিতেও বিদেশে অর্থ পাচারের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাই ছিল ভুয়া ও ভিত্তিহীন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থেকেও কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর তার রাজনৈতিক অগ্রগতি শেখ হাসিনার কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাকে মূল টার্গেট করা হয়। অনুগত মিডিয়া ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে চালানো হয় একটি পরিকল্পিত মিডিয়া  প্রোপাগান্ডা, যার উদ্দেশ্য ছিল চরিত্রহনন ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন।

২০১৮ সালে বিএনপি তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। বিদেশে অবস্থান করেও তিনি সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সারা দেশের  নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। শুধু দল নয়, সাধারণ মানুষের দুঃখকষ্টে তিনি সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা ছিল মিডিয়ার অগোচরে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়েও বাংলাদেশ আজও একই রাজনৈতিক সংকটের জটিল বৃত্তে আবদ্ধ। যা দীর্ঘদিন ক্ষমতার অপব্যবহার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয়, প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং জনগণকে রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিফলন। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল ইতিহাসের এক অনিবার্য প্রতিক্রিয়া। এই গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অনন্য-অসাধারণ। জনগণ রাজপথে  নেমেছিল শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের চরিত্র পুনর্র্নির্মাণ, পুনর্গঠনের দাবিতে। ছাত্র-জনতা জানিয়ে দিয়েছিল ভয়, দমন, বৈষম্য ও নিঃশব্দতার রাজনীতি আর সহ্য করা হবে না। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, অভ্যুত্থানের পরও সেই সংকটের সামান্যও নিরসন হয়নি। বরং তা আরও জটিল, বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিস্তৃত হয়েছে। যার গভীর ক্ষত আজও দেশের রাজনৈতিক দেহে স্পষ্ট।

এই কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। এটি কোনো একক দলের প্রত্যাশা নয়, বরং সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষের নীরব প্রতীক্ষা।

তারেক রহমানের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো জনগণ। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের শক্তি আসে মানুষের আস্থা থেকে। রাজনীতি তার কাছে জনগণকেন্দ্রিক অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া। তার লক্ষ্য এমন এক বাংলাদেশ,  যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, পেশা, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ও সুযোগ পাবে।

দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি তার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতিফলন। শিশুশ্রম নিরসন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা, গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূরীকরণ, কৃষক, শ্রমিক ও যুবকের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান, সবই অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার।

তার রাজনৈতিক দর্শন অন্তবর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমাজের প্রান্তিক জনগণ, নারী, শ্রমিক, কৃষক, তরুণ ও সংখ্যালঘু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে, এটাই তার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। নারী শিক্ষা, শিশু অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও প্রান্তিক জনগণকে সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তিই তার রাজনীতির মূল দিক।

আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা যখন বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও আদর্শের সংকটে জর্জরিত; জনগণ ক্লান্ত, হতাশায় নিমজ্জিত, তখন তারেক রহমানের এই অন্তর্ভুক্তির বক্তব্য জনতার মনে আশা জাগায়। স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার এই মৌলিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করাই তার লক্ষ্য। তার দৃষ্টিতে, রাজনীতি তখনই অর্থবহ, যখন তা সরাসরি মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে, তাদের আশা ও স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

লেখক : সম্পাদক, দেশ রূপান্তর

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত