আজ শুভ বড়দিন    

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২০ এএম

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন আজ। জেরুজালেমের বেথলেহেমে দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে আজকের দিনে কুমারী মাতা মেরির  কোলে আসেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তি, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা, বিশ^ জুড়ে মানবিক বন্ধনকে দৃঢ় করা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করতে মানুষের রূপ ধরে মহামতি প্রভু যিশুর আগমন ঘটেছিল পৃথিবীতে। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিনটিকে বড়দিন হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। যিশুর জন্মদিন উদযাপনের প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে, রোমান সাম্রাজ্যে। প্রভু যিশুর আগমন ধর্ম, দর্শন ও ন্যায়ের পথের নির্দেশক এ ধারণায় ব্যতিক্রমী দিনটিকে বড়দিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করবেন।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশপ্রেম ও মানবতার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার জন্য একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবহমানকাল ধরে এদেশের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানকে সম্মান করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন আমাদের এ সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

বড়দিন উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সব ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে মানুষের সেবা ও কল্যাণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও দশের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তারেক রহমান আরও বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, আক্রোশ পরিহার করে সমাজে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অবিচার-নির্মমতা প্রতিরোধ করতে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে। বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও মজবুত করতে হবে।

খ্রিস্ট ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা জানান, সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি গির্জা (চার্চ) আছে। রাজধানী ঢাকায় তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা (পবিত্র জপমালার গির্জা), রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চসহ ৮০টির মতো গির্জা রয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে দেশের সব গির্জাকে ক্রিসমাস ট্রি, ফুল, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। গির্জাগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। গতকাল থেকে গির্জাগুলোতে প্রার্থনা, কীর্তনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ ভোর থেকে গির্জাগুলোতে ধর্মীয় আচার, বিশেষ প্রার্থনা ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। খিস্ট ধর্মাবলম্বীরা দিনটি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ উপলক্ষে খ্রিস্টান পরিবারগুলোতে আপ্যায়নের জন্য কেক, পিঠাসহ নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল, প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল, হোটেল লা মেরিডিয়ানসহ তারকা হোটেলগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। আজ সেখানে শিশুদের আনন্দ ও উপহার দেওয়ার জন্য ঝুলি ভর্তি উপহার নিয়ে থাকবেন সান্তাক্লজ। বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এ উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও দেশ রূপান্তরকে বলেন, বড়দিনের উৎসব আধ্যাত্মিক এবং বাহ্যিক এ দুইভাবে উদযাপন করা হয়। একমাস ধরে প্রার্থনা ও কীর্তনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে উৎসব উদযাপন শুরু হয়েছে। আজ নানা আচার ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বড়দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে ও দিনটি উদযাপিত হবে। তেজগাঁও গির্জাসহ অন্যান্য গির্জায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় পৃথক সময়ে দুই ধাপে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘মহামতি যিশুর আবির্ভাব ঘটেছিল মানুষের মুক্তি, শান্তি ও একতার জন্য। তার নীতি, দর্শন অনুসরণ করলে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হয়। শান্তির পৃথিবীর জন্য এ দিনটি একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের।’ নির্মল রোজারিও বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশ^স্ত করা হয়েছে।’

বড়দিনে আতশবাজি-পটকা নিষিদ্ধ

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে আতশবাজি, পটকা ফাটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বুধবার ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফাটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হলো। পবিত্র বড়দিনের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ডিএমপি নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত