তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগিরকি পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পাশাপাশি নানা প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা। আগামী দিনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর তাদের নজর থাকবে বলেও জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ভবিষ্যতে বিরোধীমত দমনে সরকার দমনপীড়নের মধ্য আবার নিয়ে যাবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াত নেতারা বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। সংবর্ধনাস্থলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যা বলেছেন, সে বিষয়ে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা, ঐক্য গঠনে অবস্থান এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়নের দিকেই নজর থাকবে। এনসিপির নেতারা বলেছেন, তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছে খেলাফত মজলিস। গণতান্ত্রিক উত্তরণে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করবে জামায়াত : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারেক রহমান তার একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তার পরিকল্পনা শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিও পর্যবেক্ষণে থাকবে জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এ প্রত্যাবর্তন ঘিরে যেমন উচ্ছ্বসিত বিএনপি নেতাকর্মীরা, তেমনি এ ঘটনাকে স্বাগত জানাই আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন, অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কীভাবে করবেন এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্বাগত জানাই। দেশের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক ঘটনা। তবে তিনি কীভাবে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন, তার ওপরই জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান নির্ধারিত হবে।
ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কাউকে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না : প্রত্যাশা নাহিদ ইসলামের
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এ অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আমরা স্বাগত জানাই।
তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে এমন বিশ্বাসে নাহিদ বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার এ অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।
দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।’ এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে। তারেক রহমান নির্বাসনে থেকে তার দল বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তিনি কীভাবে ভূমিকা রাখেন, সেটি একটি বড় বিষয়।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিবাচক অর্জন : খেলাফত মজলিস
নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের প্রদত্ত গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিপীড়িত একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এ অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক অর্জন। আমরা দেশপ্রেম ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই, যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের যাতে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
তারা বলেন, তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের ভিন্নমতের রাজনীতি চর্চা এবং আধিপত্যবাদী শক্তির মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত করবে বলে আমরা আশা করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখায় তার ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক উত্তরণে ভূমিকা রাখবেন : আশা সাইফুল হকের
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সংকট, উদ্বেগ ছিল। এগুলো কাটিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। প্রতিকূল পরিবেশে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন পরিস্থিতিতে নতুন মানুষ হিসেবে নতুন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফিরেছেন। দুই মাস পর নির্বাচন। তার দেশে ফেরা গণতান্ত্রিক উত্তরণে প্রভাব ফেলবে। তারেক রহমান যেমন বিএনপির হাল ধরবেন, তেমনি গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা মনে করি।’
অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নেবেন : আশা বাসদের
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হওয়াটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের সন্তান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়াটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য জরুরি। অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় নন এ বাস্তবতায় তারেক রহমানই এখন কার্যত বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব।’
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপরই জনগণের প্রত্যাশা ছিল, তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনীতিতে মামলা, জেল কিংবা ফাঁসির ঝুঁকি নিয়েই রাজনীতিবিদদের এগোতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই রাজনীতির অংশ।’
তিনি বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু ভোট হয়, তাহলে জনগণের ধারণা বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন। তবে অতীতের ভুলভ্রান্তি বিশেষ করে, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রাজনীতিতে জায়গা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
