চট্টগ্রাম 'বিসিবির দল' হওয়ায় সাদমানের জন্য ভালো হয়েছে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৫ এএম

টপ অর্ডারের শক্তি বাড়াতে সাদমান ইসলামকে দলে ভিড়িয়েছে চট্টগ্রাম। নাফিস ইকবাল ও হাবিবুল বাশার সুমনের সিদ্ধান্তে দলে যুক্ত হওয়া এই বাঁহাতি ওপেনার দ্রুতই সিলেটের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। একটি ফোন কলেই প্রায় ছয় বছর পর বিপিএলে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে তাঁর।

দলে ডাক পাওয়ার প্রসঙ্গে সাদমান জানান, রবিবার সকালে নাফিস ইকবালের ফোনে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে হাবিবুল বাশারের সঙ্গেও কথা হয় এবং পরশুদিন (৩০ ডিসেম্বর) দলের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই সাদমানের সঙ্গে জুড়ে গেছে ‘টেস্ট ব্যাটার’ তকমা। এই পরিচয়টাই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর জন্য বোঝা। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে ১১ ম্যাচে ৪৬৯ রান করেন সাদমান, যেখানে ছিল একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরি।গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টিতেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখান তিনি। ঢাকা মেট্রোর হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি করেন সাদমান। বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে ৬১ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি ছক্কা ও ১১টি চার। পুরো আসরে ৬ ম্যাচে ১৫১.১৮ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৯২ রান।

এত কিছুর পরও বিপিএলের নিলামে দল না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সাদমান। জাতীয় দলের খেলা নেই, বিপিএলেও সুযোগ নেই—এই বাস্তবতায় অনুশীলনেও মনোযোগ হারান তিনি। গত কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত অনুশীলনও করতে পারেননি।

চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে সিলেট যাওয়ার আগে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সাদমান বলেন, নিলামের পর ঠিকভাবে অনুশীলনই করেননি তিনি। কারণ সামনে কোনো খেলা নেই ভেবেই লম্বা বিরতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে বিপিএলে ডাক পাবেন—এমনটা কল্পনাতেও ছিল না তাঁর।

তবে সুযোগ পেয়ে এখন স্বস্তিতে আছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। নিয়মিত অনুশীলন না থাকলেও নিজেকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত মনে করছেন না সাদমান। তাঁর বিশ্বাস, কয়েকদিন অনুশীলন করলেই ছন্দে ফিরে আসবেন।

নিলামের পর একসময় অভিমান করে বলেছিলেন, ডাক পেলেও আর বিপিএল খেলবেন না। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে রাজি হওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাদমান। তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এটা বিসিবির দল। আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল, এখন বিসিবির অধীনে। আমি তো সবসময়ই বিসিবির অধীনেই খেলি। উনারা যখন ডাকবেন, তখন খেলতেই হবে। আমার জন্য ভালো হয়েছে এটা বিসিবির দল।’

২০১৯-২০ মৌসুমের পর বিপিএলে আর খেলা হয়নি সাদমানের। এর আগে তিনটি দলের হয়ে ৯ ম্যাচে করেছিলেন ১৫১ রান। টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলে যোগ দেওয়ায় চ্যালেঞ্জটা বড় হলেও সাদমানের লক্ষ্য স্পষ্ট—বিপিএলে ভালো খেলে নিজের ওপর লেগে থাকা ‘টেস্ট ব্যাটার’ তকমা ঝেড়ে ফেলা। এ বিষয়ে সাদমান বলেন, ‘সবসময় চেষ্টা করি ভালো খেলার। টি-টোয়েন্টি হোক কিংবা টেস্ট—সব ফরম্যাটেই ভালো করতে চাই। আমাদের সবার লক্ষ্য তো সেটাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত