বিসিবির নজরদারিতে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহকারী কোচ নিয়াজ খান

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৭ এএম

‎বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিট নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহকারী কোচ নিয়াজ খানকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে নিয়াজ খানের পূর্ববর্তী চাকরি ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

‎ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজকে বুধবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য বর্তমানে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নজরদারিতে আছেন। তিনি বলেন, “ইন্টেগ্রিটি ইউনিট বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছে। বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”

‎প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিয়াজ খান নিজেকে এশিয়া কাপে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন।

‎বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের আইন উপদেষ্টা ও লিগ্যাল টিমের প্রধান মাহিন এম রহমানও তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছি—নিয়াজ খানের বিষয়টি বর্তমানে সক্রিয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।” তিনি আরও জানান, আগের মৌসুমে নিয়াজ ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং এ বিষয়ে আরও কিছু সংযোগ রয়েছে, যদিও বিস্তারিত জানাতে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

‎এদিকে বিসিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের বলেন, লিগের সততা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। “আমরা প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ এবং টুর্নামেন্টের সততা—এই দুই বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছি,” বলেন তিনি।

‎ইফতেখার রহমান আরও জানান, বিসিপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষায় একটি স্বাধীন কমিটি কাজ করছে এবং কিছু ব্যক্তিকে দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগমুক্তভাবে টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করতে বিসিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 
‎নিয়াজ খানের বিপিএল–যাত্রায় সবচেয়ে আলোচিত ও রহস্যজনক দিকটি হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। বিপিএলে এটি নিয়াজের টানা দ্বিতীয় মৌসুম। গত বছর তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং (এসঅ্যান্ডসি) কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন। চলতি মৌসুমে সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসে তিনি পেয়েছেন সহকারী কোচের দায়িত্ব।

‎দুই মৌসুমেই একটি বিষয় লক্ষণীয়—দল দুটিরই প্রধান কোচ ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। কাকতালীয় নাকি পছন্দের জুটি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বাস্তবতা হলো, পেশাগত জীবনের নানা বিতর্ক ও ‘সৃজনশীল’ পরিচয়ের পরও সুজনের নেতৃত্বেই নিয়াজ নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন।

‎রহস্য আরও ঘনীভূত হয় নিয়াজের ডিজিটাল পরিচয়ে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের অফিসিয়াল পোস্টগুলোতে তাঁকে ‘নিয়াজ উল ইসলাম’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে নাম লেখা ‘নিয়াজ খান’। সেই প্রোফাইলে আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে তোলা একাধিক ছবিও রয়েছে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‎একটি সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকজন আফগান ক্রিকেটারের ফিটনেস দেখভাল করেন নিয়াজ। সেই সূত্র ধরেই তিনি জাতীয় দলের ঘনিষ্ঠ পরিবেশে প্রবেশের সুযোগ পান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই উপস্থিতিকে ‘প্রমাণ’ হিসেবে ব্যবহার করে নিজের কোচিং পরিচয়কে শক্ত ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

‎সন্দেহ তৈরী হয়েছে সুজন-নিয়াজের দল নোয়াখালী টানা তিন ম্যাচ হেরে যাওয়ায়। বিপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতিটি রান, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি নিয়োগ গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকে, সেখানে খুব শিগগিরই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে—দুবাইভিত্তিক এক দোকান মালিক কীভাবে দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিলেন।

‎নিয়াজ খানকে ঘিরে চলমান এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত