৫ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভে গ্যাসসংযোগ নয়

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০১ এএম

দেশে গ্যাস সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের অপচয় রোধ করতে ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বেশি ক্যাপটিভ বিদ্যুতে (কারখানায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ) নতুন করে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নতুন অফিস আদেশ পেট্রোবাংলা ও গ্যাসের সব বিতরণ কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিল্প কারখানার মালিকেরা নিজেদের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেন। এতে গ্যাস সরবরাহ করে সরকার। এ ধরনের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা কম হওয়ায় গ্যাসের অপচয় হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে অনেক আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এমনকি এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিশেষজ্ঞদেরও।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমের মতে, ক্যাপটিভের তুলনায় কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি এনার্জি-সাশ্রয়ী। ধীরে ধীরে ক্যাপটিভ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।

তবে বিষয়টি নিয়ে বরাবরই উদাসীন ছিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ বিতরণ কোম্পানিগুলো। যার ফলে তুলনামূলক দক্ষ বড় অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদন করতে পারছে না।

বর্তমানে ১০ মেগাওয়াটের ওপরে সংযোগ পেতে হলে বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হয়। আর ১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ক্যাপটিভ বিদ্যুতের সংযোগের এখতিয়ার ছিল গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর। নতুন আদেশে তা কমিয়ে ৫ মেগাওয়াট করা হয়েছে। এমনকি পূর্বে অনুমোদিত শিল্প রান-এর লোড স্থানান্তরের সুযোগও থাকছে না বলে জানা গেছে।

২০২১ সালের আগে পর্যন্ত ক্যাপটিভের বিষয়টি অনেকটাই ইচ্ছাধীন ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন বেকার বসে থাকত, অন্যদিকে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করা যাচ্ছিল না। সে সময় ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ বিদ্যুতের সংযোগ পেতে হলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। ওই আদেশের পর কোনো কোম্পানিকে ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে ক্যাপটিভে কমবেশি ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। একই পরিমাণ গ্যাসে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। অর্থাৎ একই গ্যাসে দেড়গুণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। তবুও বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে রেখে চড়া দামে আমদানি করা গ্যাস ক্যাপটিভে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মোট ৯ হাজার ৭২৪ মিলিয়ন ঘনমিটার, আর একই সময়ে ক্যাপটিভে সরবরাহ হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ মিলিয়ন ঘনমিটার।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রমতে, গত জুন পর্যন্ত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৭২ মেগাওয়াটে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বেশি। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ৩ হাজার ৬৮৫ মেগাওয়াট এবং ডিজেলভিত্তিক ৩ হাজার ৮৭ মেগাওয়াট।

ক্যাপটিভ বিদ্যুতের লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৭টি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২৫টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫৯টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩১০টি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত