যশোরে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

যশোর শহরের শংকরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে শংকরপুরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নয়নের ব্যক্তিগত অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের মৃত ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।

নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তিনি হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে কে বা কারা তাকে গুলি করে। সংবাদ পেয়ে তিনি সদর হাসপাতালে এসে তার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার বিচিত্র মল্লিক জানিয়েছেন, নিহতের মাথার দুপাশে দুটি গুলির চিহ্ন আছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক জানিয়েছেন, তারা জেনেছেন শংকরপুর ইসহাক সড়কে বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়েছে। তার কপালে ও মাথায় দুটি গুলি লেগেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার এবং আসামি আটকের চেষ্টা করছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আলমগীর হোসেন অনেক আগে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি পেশাগত জীবনে এলাকায় জমি কেনা-বেচায় জড়িত। ছোটভাই কামরুজ্জামান তার এই ব্যবসার পার্টনার। তিনি এলাকায় খুব সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গরিব-দুঃখী মানুষ তার কাছ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন।

আলমগীর হোসেনের মেজ মামা হাফিজুর রহমান মাস্টার এবং নোয়া মামা তৈয়বুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার আর এক মামা প্রয়াত আকবার হোসেন ওরফে আকবার ডাক্তারও ছিলেন জামায়াতের স্থানীয় নেতা। তার বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা। আলমগীর হোসেনের মামাতো ভাই শাহেদ হোসেন নয়ন ছিলেন যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। নিহত আলমগীর হোসেনের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছে। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলু তার মেয়ের শ্বশুর।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্যক্তিজীবনে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধের কথা শোনা যায়নি। তিনি দিনের অধিকাংশ সময় ব্যবসায়ের কাজে যুক্ত থাকতেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তিনি। ফলে, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা কেউ অনুমান করতে পারছেন না।

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আলমগীরকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি হাসপাতালে আলমগীরের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সান্ত¡না প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলেও পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। একই কায়দায় বর্তমান সরকারের আমলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকা-ের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত