উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক

২৯৫ ওষুধ বিক্রি হবে সরকার নির্ধারিত দামে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এখন ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এ বিষয় অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫।

এই ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। তালিকায় থাকা এসব ওষুধ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটাবে এবং এসব ওষুধ দেশের মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি তৈরির জন্য টাস্কফোর্স ও কমিটি করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্প মালিক, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শক, গবেষকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক সভা করেছে ও তাদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা ও নীতি চূড়ান্ত করেছে। তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের ওষুধও আছে।

সায়েদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায় ওষুধের পেছনে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ ছিল। সরকার মনে করেছে, ওষুধের মূল্য যেন প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। মানুষের কাঁধ থেকে ব্যয়ের বোঝা কমানোর জন্যই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই করা হয়েছে।

সরকারি এ উদ্যোগ ওষুধশিল্পের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, মূল্য সমন্বয় করার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো চার বছর সময় পাবে। যাদের মূল্য কম, তারা বাড়াবে, যাদের বেশি, তারা ক্রমান্বয়ে কমাবে।

এখানেই শেষ নয়, তালিকার বাইরে বাজারে থাকা ওষুধের দামও সরকারের নীতি অনুসারে নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম বা বেশি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে। কোনো কোম্পানি নিজে কোনো ওষুধের দাম ঠিক করে তা বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে উৎপাদনের ২৫ শতাংশ রাখতে হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থেকে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদের সভায় ডেটা সংরক্ষণ, শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সভার মূল আলোচনার বিষয় ছিল ওষুধ।

বৈঠকে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন মিলেছে। অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুপরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘হার্ট ন্যাশনালি ডিটারমাইন কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩)’ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ বিবেচনায় এনে ডেটা লোকালাইজেশন-সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে দেশে ডেটা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে কারাদ-ের পরিবর্তে অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও ক্লাউডভিত্তিক সেবায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে। এর মধ্যে থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, নৃত্য ও পারফরম্যান্স আর্ট, সংগীত, চারুকলা, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসব প্রযোজনার জন্য পৃথক বিভাগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমির বোর্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।

বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬ সম্পর্কে প্রেস সচিব জানান, ১৯৫৯ সালের ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন অর্ডিন্যান্সকে যুগোপযোগী করে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পণ্যবৈচিত্র্য, শোরুম স্থাপন ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরে করপোরেশন কর-পূর্ব মুনাফায় ৫৩ কোটি টাকা অর্জন করেছে এবং রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি টাকা লাভ করেছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

এনডিসি-৩ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ছিল ২০২.০৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য, যা ২০৩৫ সালে ৪১৮.৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। এনডিসি-৩ অনুযায়ী ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া গেলে আরও ৫৮.২৩ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত