কিলারের চেহারা স্পষ্ট গ্রেপ্তারে অগ্রগতি নেই

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান ওরফে মোসাব্বিরের হত্যাকারীদের চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। তবে ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, এমনকি পরিচয়ও শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্দেহভাজন একাধিকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তেজগাঁও থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সংশ্লিষ্ট এক সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, মোসাব্বিরকে হত্যা করতে পাঁচজনের একটি কিলিং মিশনের পরিকাল্পনা করে। দুজন কারওয়ান বাজার টু ফার্মগেট মেইন সড়কের অন্ধকার স্থানে অবস্থান করছিল।

আর দুজন শুটার ও একজন বাইকচালক গিয়েছিল মোসাব্বিরকে গুলি করতে। গুলি শেষে কিলাররা মেইন রোডে চলে আসে। পরে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তিনি আরও বলেন, কিলিং মিশনে অবস্থান নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে বাইকচালককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎই কারওয়ান বাজার থেকে চাঁদাবাজিরা উধাও হয়ে গেছে। তাদের কাছে এখন আর কেউ চাঁদার জন্য আসে না। জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সোর্সের পাওয়া তথ্যে কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজ আব্দুর রহমান জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তারেও কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এর প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার তেজগাঁও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা।

তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন পাওয়া ভিডিও ফুটেজে শুটারদের মুখম-ল তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকা-ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, আগের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে নতুন ভিডিও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আগে ও পরে শুটারদের গতিবিধি, পালানোর রুট এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। আশপাশের সড়ক, দোকান ও ভবনের ক্যামেরা ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হত্যাকান্ডের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার কিংবা পূর্বশত্রুতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মোসাব্বিরের পারিবারিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার চলাফেরা, সাম্প্রতিক হুমকি ও যোগাযোগের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেহারা স্পষ্ট হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সবসময় সহজ হয় না। তবে নতুন ফুটেজ আমাদের তদন্তে বড় সহায়ক হবে বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যায় অংশগ্রহণকারীরা ভাড়াটে খুনি। কিন্তু তাদের নাম-পরিচয় এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে জোর তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তারের দাবিতে তেজগাঁও থানা ঘেরাও : মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুদিনেও ঘাতকদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে হত্যাকা-ের ঘটনাস্থল তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিল কাওরান বাজার মোড় হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।

বিক্ষোভকারীদের চাপে তেজগাঁও থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর মিছিল আবারও কাওরান বাজার হয়ে সোনারগাঁও মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা বলেন, মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নিহতের পরিবার ও আমজনতা দলের প্রধান তারেকসহ স্থানীয়রা এসেছিলেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, ঘটনাস্থলের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের পরিচয় প্রকাশ ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ: জুমার নামাজের পর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তার অনুসারীরা। বিক্ষোভকারীরা পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। এরপর ফার্মগেট ঘুরে কারওয়ান বাজারে এসে মিছিল শেষ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গত বুধবার রাত ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আজিজুর রহমান মোসাব্বির। একই ঘটনায় কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত