অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মোস্তফা
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট
ম্যালিগন্যান্সি হলো ক্যানসার ছড়ানোর প্রক্রিয়া। ক্যানসার কোষ শরীরের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যে সংবেদনশীলতা তাকে ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসার বলা হয়। এগুলো এমন ক্যানসার, যা একাধিক অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টিস্যুতে গভীরতর প্রভাব ফেলে। ম্যালিগন্যান্সি বা ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের চিকিৎসার জন্য, একটি সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা থাকতে হবে। ম্যালিগন্যান্সিটি চিকিৎসা করা অনেক কঠিন এবং টিস্যুতে আক্রমণ চালিয়ে যায়। রক্ত এবং লিম্ফের মতো সংযোগকারী টিস্যুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসারের পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।
লক্ষণ
ম্যালিগন্যান্সি বা ক্যানসারের কারণে যে ব্যাক পেইন হয়ে থাকে, সেটি সাধারণত বয়স্কদের হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়। অনেক সময় রাতে রোগী ঘুমাতে বা বসতে পারেন না। এর সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমতে থাকে, ক্ষুধামান্দ্যভাব দেখা দেয়। অনেক সময় রোগী প্যারালাইস্ট বা অবশ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে চলে আসে। দুই পা তার অচল হয়ে যায়। কোনো কোনো রোগীর বাউল ব্লাডার সমস্যা হয়। প্রস্রাব আটকে অথবা মলদ্বারের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সুতরাং ম্যালিগন্যান্সিও ব্যাক পেইনের সবচেয়ে খারাপ একটি কারণ।
বয়স্ক মানুষের ব্যাক পেইন হলে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত দেখা যায়, বোন্সের এবং ম্যালিগন্যান্সির ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব বোন্সের একটি টিউমার আছে বা ক্যানসার আছে এটাকে আমরা বলি মাল্টিপল মায়নোমা। ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট থেকে অনেক সময় মেটাস্টাসিস হয়, কিডনি থেকেও হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট থেকে হতে পারে। সুতরাং বয়স ৬০ বছরের ওপরে বা ৫৫ বছর এ রকম সময়ে ক্রনিক ব্যাক পেইন হয়, রাতে ঘুমাতে পারেন না, ওজন কমে, খেতে পারেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত না হলে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলুন আগে জেনে নেওয়া যাক কোন ৩ ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে ব্যাকপেইন হতে পারে
মূত্রাশয় ক্যানসার
পিঠের নিচের অংশে ব্যথা মূত্রাশয় ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। মূত্রাশয়ের গভীরতম টিস্যুতেই সাধারণত টিউমার বড় হতে থাকে। তলপেটে ব্যথা সাধারণত মূত্রাশয় ক্যানসারের গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মূত্রাশয় ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত ও প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
মেরুদ-ের ক্যানসার
স্পাইনাল কর্ড ও মেরুদ-ের কলামের ক্যানসারও পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে। যদিও এটি বিরল। মেরুদ-ে টিউমার হলে ব্যাকপেইন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এই ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। মূত্রাশয় ক্যানসারের মতোই মেরুদন্ডের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পিঠে ব্যথা প্রাথমিক এক লক্ষণ। তাই ব্যাকপেইনকে কখনো উপেক্ষা করা ঠিক নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা তীব্র হতে পারে ও শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মেরুদন্ডের ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে অসাড়তা, দুর্বলতা, বাহু ও পায়ে দুর্বলতা ও পক্ষাঘাতও অন্তর্ভুক্ত।
ফুসফুসের ক্যানসার
ফুসফুসের ক্যানসারের বিভিন্ন লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্যাকপেইন। আপনি যদি পিঠে ব্যথার সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের অন্য কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করেন, অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণগুলো হলো কাশিতে রক্ত পড়া, অবিরাম শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, যা আরও খারাপ হয় ও কাশি, যা দুই বা তার বেশি সপ্তাহ ধরে থাকে।
চিকিৎসা
ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসার চিকিৎসার চারটি ধাপ রয়েছে। পরিকল্পনায় সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি যুক্ত থাকে। প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে সুস্থ হওয়া সম্ভব। এ ছাড়া ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। প্রচুর ফল ও শাকসবজি খেতে হবে নিয়মিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ও ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।