ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারি : ট্রাম্প

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান পড়ে যাওয়ায় ইরানে চলমান বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ দমনে হিমশিম খাওয়া ইরান সরকার ইতিমধ্যে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে। তার মধ্যেই গতকাল শনিবার ১৪তম দিনে গড়িয়েছে এই বিক্ষোভ। এতে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন নিহত ও ২ হাজার ৩১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বলছে, রাজধানী তেহরানের মাত্র ছয়টি হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই তাজা গুলিতে নিহত। এদিকে, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সহিংস পথ অবলম্বন এ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ইরানে আবারও সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সাধারণ জনগণের ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে সহিংস হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মানবাধিকার গোষ্ঠী এইচআরএএনএ বলছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহরের ৫১২টি স্থানে বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত রাতেও সমাবেশ অব্যাহত ছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও জোরদার হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিচারিক হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম গোপন রাখা ওই চিকিৎসক জানান, কর্র্তৃপক্ষ এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ, যাদের মধ্যে কয়েকজন উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে নিহত হন। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করলে তারা ‘ঘটনাস্থলেই’ মারা যান। অধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, সেসময় অন্তত ৩০ জনকে গুলি করা হয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ছবি-ভিডিও দেখানো হচ্ছে, আর আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাতের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান বড় বিপদে আছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, মানুষ এমন কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করেনি। ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তোমরা গুলি না চালালেই ভালো করবে। কারণ (চালালে) আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। এর আগে গত সপ্তাহে তেহরানকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। এরপর রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ মোকাবিলায় ‘ঐক্যবদ্ধ থাকার’ আহ্বান জানান। খামেনি বিক্ষোভের বিষয়ে সতর্ক করেন। ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রুদের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। খামেনি হুঁশিয়ারি দেন যে, অস্থিরতা দমন করা হবে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, ইরানিদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোনো শক্তি ইরানে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন না তিনি। গত শুক্রবার লেবানন সফরে গিয়ে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে এবং এটা সত্য। মূলত তাদের হস্তক্ষেপের কারণেই জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত