জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে ব্যাপক হত্যাকা-সহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে। অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেয় আদালত।
এর মাধ্যমে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু হচ্ছে। গতকাল দুই আসামি ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের জবাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আরজি জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের বিধান অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণের আগে আসামিপক্ষ প্রস্তুতির জন্য তিন সপ্তাহ সময় পাবে।
গত ৪ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচণা ও ষড়যন্ত্রসহ জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওনারা (সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক) কারফিউ জারি করে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। শেষ করে দেওয়া মানে হত্যা করা। দুই আসামি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ ও অপকর্ম করেছেন।’
