ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট পেপার নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক কৌশলে প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক রাখা হয়েছে মাঝখানে। ব্যালট ভাঁজ করলে সহজে চোখে পড়ে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে, যা ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে দৃশ্যমান থাকে না। এটি নিছক কাকতালীয় নয় বরং পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
নাজরুল ইসলাম বলেন, ব্যালট পেপারে পাঁচটি কলাম ও ১৪টি লাইনের বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে তিনটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে চলে আসে। যদি কলাম বা লাইনের সংখ্যা ভিন্ন হতো, তাহলে এমন বিন্যাস প্রয়োজন হতো না। তার দাবি, যারা ব্যালট পেপারের নকশা করেছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটি করেছে।
বিএনপির এ শীর্ষ নেতার অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট বিতরণেও অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাদের হাতে একাধিক ব্যালট পেপার থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ভোট কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নজরুল ইসলাম খান জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ভেতরে এখনো যেসব পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে যেন একই ধরনের ব্যালট নকশা ব্যবহার না করা হয় এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি কেউ ভোটে কোনো কারচুপির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের এনআইডি কিংবা ভোটার পরিচয় ব্লক করে দেওয়া হবে। আমরা মনে করি, যারা নির্বাচন বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, আরেকটি বিষয় আমরা আলোচনা করেছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সারা দেশে আমাদের ভোটারদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। এটা ভুয়া ভোটার তৈরি ও অর্থ লেনদেনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের চেয়ারম্যানের উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করেছি, যদিও সেটা ছিল ব্যক্তিগত সফর। রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমরা তা স্থগিত করেছি। কিন্তু আমরা দেখছি অন্য দলের নেতারা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, সমাবেশ করছেন। সেখানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
