বুন্দেসলিগায় ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলছে বায়ার্ন মিউনিখ। কোলনের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে মৌসুমের প্রথমার্ধ শেষে পয়েন্টের রেকর্ডে ছুঁয়েছে তারা। গোলসংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে জার্মান শীর্ষ লিগের সব আগের নজির। ১৭ ম্যাচ শেষে বায়ার্নের সংগ্রহ ৪৭ পয়েন্ট—১৫ জয় ও ২ ড্র। এর আগে এই সংখ্যক পয়েন্ট ছিল কেবল পেপ গার্দিওলার অধীনে ২০১৩-১৪ মৌসুমে।
ভিনসেন্ট কোম্পানির দল প্রথম ১৭ ম্যাচে গোল করেছে ৬৬টি, যা বুন্দেসলিগার ইতিহাসে অর্ধেক মৌসুমে সর্বোচ্চ। ২০১৩-১৪ মৌসুমে গার্দিওলার বায়ার্ন ১৭ ম্যাচে করেছিল ৪৪ গোল। সেখানে কোম্পানির বায়ার্ন এবার ২২ গোল বেশি করেছে। সেই মৌসুমে বায়ার্ন ৯০ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতেছিল এবং সাত ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত হয়।
চলতি মৌসুমে ১৭ ম্যাচ শেষে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে বায়ার্ন এগিয়ে ১১ পয়েন্টে। এখন লক্ষ্য বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ ৯১ পয়েন্টের রেকর্ড, যা গড়ে দিয়েছিল ইউপ হেইঙ্কেসের ট্রেবলজয়ী বায়ার্ন (২০১২-১৩)। সে সময় একই পর্যায়ে তাদের পয়েন্ট ছিল বর্তমান বায়ার্নের চেয়ে পাঁচ কম।
১৭ ম্যাচ শেষে ৬৬ গোল—ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে এমন গোলবন্যা দেখা যায়নি প্রায় এক শতাব্দী ধরে। সর্বশেষ ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাথলেটিক বিলবাও ১৭ ম্যাচে করেছিল ৭২ গোল। তবে সর্বকালের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স ১৭ ম্যাচে করেছিল ৭৩ গোল, যা আজও অক্ষত।
আধুনিক যুগে তুলনা টানলে আসে ম্যানচেস্টার সিটির নাম। ২০১১-১২ মৌসুমে রবার্তো মানচিনির সিটি ১৭ ম্যাচে করেছিল ৫৩ গোল—সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন ভিনসেন্ট কোম্পানি নিজেই। বায়ার্নের এই গোল উৎসবের কেন্দ্রে আছেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক চলতি মৌসুমে ২৭ ম্যাচে করেছেন ৩১ গোল, যার মধ্যে বুন্দেসলিগাতেই ১৭ ম্যাচে ২০ গোল। মাত্র আট ম্যাচে তিনি গোল পাননি।
বায়ার্নে প্রথম মৌসুমে (২০২৩-২৪) কেইনের গোলের গড় ছিল প্রতি ৭৯ মিনিটে একটি। দ্বিতীয় মৌসুমে তা নেমে আসে ৯২ মিনিটে। আর এবারের মৌসুমে ম্যাচপ্রতি গড়ে প্রায় প্রতি ৬০ মিনিটেই গোল পাচ্ছেন তিনি। ডিসেম্বরে স্টুটগার্টের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ছিল বায়ার্ন জার্সিতে কেইনের ১১তম হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে বুন্দেসলিগায় তার গোল এখন ৮২টি—ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে অভিষেকের পর কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।
সেমিফাইনালের দুঃস্বপ্ন কাটানোর পথে আর্সেনাল, তবু রয়ে গেল আফসোস
অখ্যাত দলের কাছে হেরে কোপা দেল রে থেকে রিয়ালের বিদায়