২৫৩ আসনে সমঝোতা হলেও শেষ হয়নি নাটকীয়তা

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৮ এএম

এখনো নাটকীয়তা শেষ হয়নি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের। ইসলামী আন্দোলনের আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছেন জোটের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা হয়। পরে রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

সমঝোতা অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এ ছাড়া এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৭, বিডিপি ২ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে লড়বে। অন্য তিন দলের আসন ঘোষণা করা হয়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে এ সংবাদ সম্মেলন চলার মধ্যেই ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে জোটের বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে। তবে ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের কৌশলী জাবাব দিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, তাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শেষ হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, যাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, তারা ১১ দলের এবং দেশবাসীর ক্যান্ডিডেট।

এর আগে গতকাল বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মামুনুল হক ছাড়াও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে দুপুরের বৈঠকেও ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ সমঝোতায় তাদের রাখার আলোচনার জন্য ১০ দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তাছাড়া জোটের নাম ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ ঠিক করা হয়।

বৈঠক শেষে মামুনুল হক বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা একসঙ্গেই এগিয়ে যেতে পারব। ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করতে পারব।’

বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই জোটের (১১ দল) রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। জোট নিয়ে মানুষের আকাক্সক্ষার জায়গা আছে। যে মতভিন্নতার জায়গা আছে, তা কেটে যাবে।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। ছোটখাটো মতবিরোধ আছে, সেগুলো কেটে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন না থাকায় সংবাদ সম্মেলনে ২৫০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ৫০ আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা হয়। তারা না এলে পরবর্তী সময়ে বাকি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলো।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব এই জোট যেন অটুট থাকে। কারও মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। আসন সমঝোতা হলেও, এই জোটের (১১ দল) রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাক্সক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বোঝে।

নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে জোট প্রক্রিয়া হওয়ায় কিছু মতভিন্ন হয়েছে, এটা কেটে যাবে।

ঐক্যের স্বার্থে প্রার্থী হচ্ছেন না রাশেদ প্রধান : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে’ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, নিজে প্রার্থী না হলেও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে মাঠে থাকবেন এবং সমঝোতার প্রার্থীদের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেবেন।

মগবাজার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের বৈঠক শেষে গতকাল বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান রাশেদ প্রধান। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সংযম ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে রাশেদ প্রধান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঐক্যের আসন সমঝোতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের শরিক দলগুলো রাজপথের সহযোদ্ধা এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। এ কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সব দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একে অপরের প্রতি অনাকাক্সিক্ষত আচরণ ও ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে রাশেদ প্রধান বলেন, ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এবং ঐক্যের প্রার্থীদের হয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি রাশেদ প্রধানের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই কেউ যেন মন খারাপ না করেন। আর সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা চাইলে তাদের ‘চিরাচরিত ভাষায়’ সমালোচনা চালিয়ে যেতে পারেন।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত বুধবার বিকেলে ১১-দলীয় জোটের এই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। এরপর জোটের ১০ দলের শীর্ষ নেতারা গতকাল বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত