ইসি সানাউল্লাহ

পোস্টাল ব্যালটে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ এএম

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, কেউ যাতে না ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে। আর আপনারা যা ইচ্ছা তা করবেন। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দূতাবাস ও মিশনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ যাতে যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব এমবাসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর প্রবণতা কমাতে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মূলধারার গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো এ ধরনের পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটি কমিশন ভালোভাবেই জানে। প্রবাসী ভোটারদের বাস্তবতা, তাদের বসবাসের পরিবেশ, ডিজিটাল লিটারেসির হার এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবস্থান বিবেচনায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় পাঁচ দশকের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীনস্বার্থ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে যেন এ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবার ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পেপার বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ট্রানজিটে আছে ৫৯ হাজার ৫৮৪টি ব্যালট। সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট। ভোটারের হাতে পৌঁছেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি (কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের তথ্য অনুযায়ী)। আনফরচুনেটলি বেশ কিছু ব্যালট ডেলিভার না হয়ে ঠিকানা ভুল লেখার কারণে ফেরত এসেছে। এগুলো আর কিছু করার নেই। মূলত এগুলো ফেরত আসছে মালয়েশিয়া থেকে। এর সংখ্যা ৪ হাজার ৫২১টি। আর সেকেন্ড হাইয়েস্ট এসেছে ইতালি থেকে। আমরা মিশনগুলোকেও বলেছি, যাতে এটা আরেকটু কমানো যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে।

সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও ও বাস্তবতা তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সম্প্রতি বাহরাইন, ওমান ও কুয়েতে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। বাহরাইন পোস্টম্যান একই ঠিকানায় থাকা অনেক বাংলাদেশির ব্যালট একত্রে দিতে গেলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পরবর্তী সময়ে দূতাবাস বাহরাইন পোস্টকে নির্দেশ দিয়েছে ‘সিপিআর’ (ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সমতুল্য) দেখা ছাড়া যেন কাউকে ব্যালট না দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ওমান সেখানেও আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট দেখা ছাড়া ব্যালট হস্তান্তর না করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও একজনের ব্যালট অন্যজনকে দেওয়া হবে না। সেই সঙ্গে কুয়েত পোস্টে অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন। তারা সর্টিংয়ের সময় অতি-উৎসাহী হয়ে ভিডিও করে ছড়িয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে একই ঠিকানায় বসবাস করেন (একই ঠিকানায় ১০০ জন পর্যন্ত ভোটার রয়েছেন), ফলে বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনের সময় কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে প্রতিটি মিশনকে সতর্ক করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত