আন্দোলনে টানা দুই দিন নাকাল ঢাকাবাসী

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, গাবতলীর টেকনিক্যাল মোড় ও পুরান ঢাকায় সড়ক অবরোধে শহর জুড়ে তীব্র যানজট দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের এই অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। বুধবারের সড়ক অবরোধের রেস কাটতে না কাটতেই গতকাল ফের আন্দোলনে নামেন তারা। আবার অধ্যাদেশ জারি না হলে মার্চ টু যমুনা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ও আগামী সোমবার ফের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। সাভার থেকে গুলিস্তান যাওয়ার পথে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়া যাত্রী রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকাচ্ছে। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা নিন।

যানজটে আটকে থাকা একজন সিএনজিচালক বলেন, ‘মানুষকে হয়রানি করে দাবি আদায় এই দেশে এক ধরনের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। সারা দিন মাত্র একটা ক্ষেপ মারছি। আজকে মালিকরে দেওয়ার টাকাই ওঠে নাই। এদের আন্দোলনের কারণে ফেঁসে গেছি। অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও গাড়ি ছাড়েনি।’

এদিকে ডিএমপির দারুসসালাম থানার ওসি এস এম জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল দুপুরে থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে। নিউ মার্কেট থানা পুলিশ জানায়, দুপুরে শুরু হওয়া আন্দোলন সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষার্থীরা ফের নতুন কর্মসূচি দিয়ে সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে সেøাগানে সেøাগানে রাজপথ উত্তাল করে রাখলেও, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ নগরবাসী। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের ফলে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী একটি বিশাল মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি নীলক্ষেত হয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’ এমন সব সেøাগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।’

সায়েন্স ল্যাব ছাড়াও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যানচলাচল স্তবির হয়ে যায়। এতে ঢাকার সড়কে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। 

এদিকে সায়েন্স ল্যাবে অবরোধকালীন সাত কলেজের পক্ষে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমাদের তিন জায়গায় অবরোধ চলছে। গতকালও (বুধবার) আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। যদি অধ্যাদেশ জারি না করা হয়, তাহলে মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি দেব। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করেছে।’

অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। তবে এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এ অবরোধে নেমেছেন।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম শুরু হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাদেশ না জারি হওয়ায় তারা ক্লাস করতে পারছেন না এবং রেজাল্ট পাচ্ছেন না। তাদের মতে, সরকার চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করে পরিস্থিতি সমাধান করুন, এটাই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত